বিমানের ৩ কর্মকর্তা সাসপেন্ড

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৪, ২৩:৪৯

সোনা চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেন।

বরখাস্তকৃতরা হলেন- বিমানের চিফ অব প্লানিং এন্ড সিডিউলিং ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ আসলাম শহীদ, উপ-মহাব্যবস্থাপক (ফ্লাইট সার্ভিস) এমদাদ হোসেন এবং ম্যানেজার (সিডিউলিং) তোজাম্মেল হোসেন। গ্রেফতারের পর তাদের চার দিনের রিমান্ডে এনে বুধবার থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া একই অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ব্যবসায়ী হারুন অর রশীদ ও মাহমুদুল হক পলাশকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বুধবার রাত ও গতকাল দিনভর তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা গোয়েন্দা পুলিশকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
এদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানান, সোনা চোরাচালানে জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গতকাল মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বিমান কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাশেদ খান মেনন বলেন, এই ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে একটি প্রতিবেদন দেবে। ঐ রিপোর্ট হাতে আসার পরই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ১২ নভেম্বর শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদস্যরা বিমানের কেবিন ক্রু মাজহারুল আফসার রাসেলকে দুই কেজির বেশি সোনাসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে আটক করে। তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সোমবার রাসেল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উল্লিখিত পাঁচ জনকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। রাসেল তার জবানবন্দিতে সোনা চোরাচালানে জড়িত অনেকের নাম ফাঁস করে দিয়েছেন। এদিকে বিমানের তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতারের পর সোনা চোরাচালানে সম্পৃক্ত বিমানের এমন একজন ফার্স্ট অফিসার গ্রেফতারের ভয়ে গতকাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। জাতীয় পতাকাবাহী এই প্রতিষ্ঠানের কয়েক জন ককপিট ও কেবিন ক্রু ইতিমধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে অবস্থিত বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস শাখার এক শ্রেণীর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সোনাসহ বিভিন্ন চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিমানের এক কর্মকর্তা ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এই শাখার দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়; কিন্তু গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি দিকে তাকে আবার এই শাখার দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়া গ্রেফতারকৃত  বিমানের চিফ অব প্লানিং এন্ড সিডিউলিং ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ আসলাম শহীদের চাকরির বয়স গত ২৭ অক্টোবর শেষ হলেও তিনি অবসরে যাননি। কয়েক মাস আগে অস্থায়ী ভিত্তিতে বিমানে শতাধিক কেবিন ক্রু নিয়োগ দেয়া হয়। এই নিয়োগ কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ফ্লাইট সার্ভিস) এমদাদ হোসেন। আর নেপথ্যে নিয়োগে বিশেষ ভূমিকা রাখেন বিমানের পরিচালনা পর্ষদের এক কর্মকর্তার কথিত ‘ধর্মপুত্র’ মাহমুদুল হক পলাশ। এই নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পলাশের নেতৃত্বে বিমানবন্দর এলাকায় একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবত্ তত্পর ছিল। 
উল্লেখ্য, গত প্রায় দেড় বছরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদস্যরা ৩১২ কোটি টাকা মূল্যের ৬৭৮ কেজি সোনা আটক করেন। এর মধ্যে গত এপ্রিল মাসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের একটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের ভেতর থেকে আটক করা হয় ১৬০ কেজি সোনা। এসব সোনা চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮৮ জনকে আটক করা হয়। এসব চোনা আটকের অভিযানে নেতৃত্ব ও সমন্বয়কারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান। এদিকে সোনা চোরাচালানের সাথে জড়িত রাঘব-বোয়ালরা যখন আইন প্রয়োগকারীর সংস্থার জালে আটকা পড়তে শুরু করেছে ঠিক তখন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের শীর্ষ পদে রদবদলের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 
এক কোটি রুপীসহ পাকিস্তানি নাগরিক আটক
হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল বৃহস্পতিবার ১ কোটি ১৭ লাখ ভারতীয় রুপীসহ এক পাকিস্তানি নাগরিককে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। আটককৃত ঐ ব্যক্তির নাম সেলিম মাহমুদ (৪৪)। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল এলাকা থেকে ভারতীয় রুপীসহ তাকে আটক করা হয়। দুপুর ১টার দিকে করাচি থেকে আসা পিকে-২৬৬ নম্বরের বিমানটি শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেলিম মাহমুদ মালামাল নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে গ্রিন চ্যানেল এলাকা দিয়ে বাইরে বের হচ্ছিলেন। এ সময় তার গতিবিধি দেখে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ১ কোটি ১৭ লাখ ভারতীয় রুপী উদ্ধার করা হয়।