সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী চালকের দণ্ড কমানোকে অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বর্তমান বাস্তবতায় এই সাজার মেয়াদ আরো বৃদ্ধি করা উচিত বলে অভিমত দিয়েছে আদালত। সামরিক সরকারের আমলে দণ্ডবিধি সংশোধন করে চালকের সাজার মেয়াদ তিন বছর করাকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের ডিভিশন বেঞ্চ।
রায়ে বলা হয়েছে, সাত বছরের সাজার মেয়াদ কমিয়ে তিন বছর করে দণ্ডবিধিতে আনীত সংশোধনী সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাস্তবতার নিরিখে এই সাজার মেয়াদ যথেষ্ট নয়। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে সাত বছরের সাজার মেয়াদ দণ্ডবিধিতে বহাল রইল বলে জানান আইনজীবীরা।
১৯৮৫ সালে সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের আমলে দণ্ডবিধির ৩০৪ (বি) ধারা সংশোধন করে সাজার মেয়াদ কমানো হয়। প্রায় ৩০ বছর পর এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকীসহ সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন। ২০১১ সালে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই সংশোধনী কেন বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ শুনানি করেন। রিট আবেদনের রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি গ্রহণ করে হাইকোর্ট গতকাল এই রায় দেয়।
রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. খোরশেদুল আলম বলেন, হাইকোর্ট সাজা কমানোর সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি বর্তমান সাজাও বাড়ানো উচিত বলে অভিমত দিয়েছে আদালত।
