রাজউকের আবাসন প্রকল্প শেষ হচ্ছে না যথাসময়ে

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৪, ১০:৪০

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) তার আবাসন প্রকল্পগুলোর কাজ যথাসময়ে শেষ করতে পারছে না। রাজউকের ব্যর্থতার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহককে। দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। যদিও একেকটি প্রকল্প শুরুর আগে রাজউক এই বলে নিশ্চিয়তা দিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্লট ও ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হবে। অথচ বাস্তব চিত্র পুরো উল্টা।
রাজউক সবর্েশষ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল ১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে ঢাকার কেরানীগঞ্জে। ঝিলমিল প্রকল্প নামে এই প্রকল্পটির কাজ ২০০১ সালে শেষ করার কথা। ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সব কাজ শেষ করতে পারেনি রাজউক। এর মধ্যে দু’বার প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। ১৯৯৭ সালে প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩৬ কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৩৩৫ কোটি টাকা। ফের সময় বৃদ্ধি করা হলে ব্যয় আরো বাড়বে বলে জানান রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অন্য প্রকল্পগুলোরও একই চিত্র ।
রাজধানীর আবাসন চাহিদা মেটাতে ষাটের দশকের দিকে উত্তরা মডেল টাউনের প্রথম পর্বের কাজ হাতে নেয় তত্কালীন ডিআইটি (বর্তমান রাজউক)। এই কাজ শেষ হয় আশির দশকে এসে। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের প্রকল্পের আওতায়
মোট ৭ হাজার প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। তৃতীয় পর্বের প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল ২০০৩ সালের জুনের মধ্যে এটি শেষ হবে। কিন্তু রাজউক তা পারেনি। তিনবার সময় বাড়িয়ে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও রাজউক প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি।
রাজধানীর অদূরে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পটি রাজউক হাতে নেয় ১৯৯৫ সালে। প্রকল্পের জন্য নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাড়ে চার হাজার একর ও গাজীপুরের কালীগঞ্জে দেড় হাজার একর মিলিয়ে জমি অধিগ্রহণ করা হয় ৬ হাজার একর। এখানে প্লট হবে ২৫ হাজার। জটিলতার কারণে ৮ বছর বিলম্বের পর রাজউক প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন কাজ শুরু করে ২০০৩ সালে। ২০০৫ সাল থেকে  ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাজউক মোট ১৮ হাজার প্লট বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে গত বছর চারটি সেক্টরের সহস্রাধিক প্লট গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করতে পেরেছে রাজউক। উক্ত প্রকল্পে এখনো সার্ভিস রোডসহ অনেক স্থানে সেতু নির্মাণ করা হয়নি। গ্রিনওয়ে এবং ওয়াকওয়ে তৈরি হয়নি কোথাও। গড়ে তোলা হয়নি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাও। ফলে প্লটের দখল পেলেও কেউ সেখানে বসবাস করতে পারছে না।
রাজউকের মতে, এ পর্যন্ত পূর্বাচল প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪৫ শতাংশ। জানা গেছে, নানা জটিলতার কারণে পূর্বাচল প্রকল্পের বাস্তবায়ন একাধিকবার পিছিয়ে যায়। মূল প্রকল্পে এর সমাপ্তিকাল সংশোধনের পর ২০১০ সাল নির্ধারণ করা হয়। পরে সমাপ্তিকাল আরও বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত। পরে আরো এক ধাপ সময় বাড়িয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাল ধরা হয়েছে ২০১৬ সালের জুন মাস। বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় এর ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। মূল প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৩১১ কোটি টাকা এবং সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা।
বর্ধিত ব্যয়ের ভার চাপানো হচ্ছে গ্রাহকদের ওপর। তবে সব প্রকল্পের চেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে আশির দশকে শুরু হওয়া উত্তরা দ্বিতীয় পর্বের রাস্তার উন্নয়ন কাজ। যা এখনো সম্পন্ন হয়নি।
এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ইত্তেফাককে বলেন, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে আইনি জটিলতা থাকায় প্রকল্পগুলো গ্রহণের পর বড় বাধা আসে। এতে একটু বিলম্ব হয়ে যায়। এতে আমাদের কিছুই করার থাকে না। তারপরও আমরা সব সময় চেষ্টা করি প্রকল্পগুলো যথাসময় বাস্তবায়ন করতে।