‘গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়লে জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব পড়বে’

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৪, ১৭:৪৪
 
 
 
 
রাজধানীতে ‘গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত: ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, এদেশের ৮৭ শতাংশ মানুষ নিন্ম আয়ের। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়লে তাদের জীবনযাত্রার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া গ্যাস একটি লাভজনক খাত, কোন লোকসান নেই। ফলে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব অযৌক্তিক।
পল্টনস্থ মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলনকক্ষে শুক্রবার যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। সভায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের প্রতিবাদে শনিবার সারা দেশে এবং আগামী ২৪ নভেম্বর ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, গণফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী; তেল, গ্যাস, বিদ্যুত্, বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহামম্মদ, অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক বদরুল ইমাম, অধ্যাপক এম এম আকাশ প্রমুখ।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সিপিবির সভাপতি গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
খালেকুজ্জামান বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির প্রস্তাব অযৌক্তিক। এর ফলে জনগণের কষ্ট বাড়বে।
অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, জ্বালানি খাততে ধ্বংস করার জন্য একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে। একটি পাবলিক ইনকোয়ারি কমিশন গঠন করে সব অপকর্ম জনগনের সামনে তুলে ধরা হবে।
অধ্যাপক আনু মুহামম্মদ বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বাড়তি আয় দিয়ে যদি সরকার এ খাতের উন্নতি করত, তাহলে হতো। কিন্তু তা হচ্ছে না।
আনু মুহাম্মদ বলেন, প্রতিমাসে গ্যাস বিলের সাথে বিলের ১১ দশমিক ২২ শতাংশ অর্থ দিয়ে ভোক্তারা গ্যাস উন্নয়ন তহবিল গঠন করেছে। যাতে এ অর্থ দিয়ে অনুসন্ধান ও উত্পাদনে নিয়োজিত দেশীয় কোম্পানির বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এ অর্থ কোনো কাজে লাগাচ্ছে না সরকার।
আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, এই খাততে অধিক মুনাফার ক্ষেত্র বানানোর নীতির কারণে দাম বাড়ানো হচ্ছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়ার পর গণশুনানির আগেই কী ভাবে বিইআরসির একজন সদস্য বলেন যে, আগামী জানুয়ারি থেকে গ্যাসের দাম বাড়ছে? তাহলে কি বিইআরসি আগেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নির্ধারণ করে রেখেছে?
অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, আমাদের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার মূলে রয়েছে অব্যবস্থাপনা। আমরা বাপেক্সকে বাদ দিয়ে বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভর হয়ে পড়ছি। ২০০৮ সালে সরবরাহকৃত গ্যাসে বিদেশি কোম্পানির গ্যাসের অংশ ছিল ৪৮ শতাংশ। বর্তমানে তা হতে চলেছে ৫৭ শতাংশ। তাহলে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল ব্যর্থ ও ভোক্তারা প্রতারিত।
অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে দেশের ৮৭ শতাংশ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। প্রতিবছর গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে ভোক্তাদের দেয়া এক হাজার কোটি টাকা জমা হচ্ছে। নীতিমালা মতে— এ অর্থ অনুদান হিসেবে বিনিয়োগ হবে। কিন্তু নীতিমালা উপেক্ষা করে জ্বালানি বিভাগ ওই তহবিলের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং তহবিলের অর্থ সুদে গ্যাস খাতে খাটাচ্ছে। তাই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হবে গণস্বার্থ-বিরোধী।