ছয় বছরে প্রাণ ঝরল ২১ শিক্ষার্থীর

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৪, ২৩:৩২

ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার হত্যার শিকার হন সংগঠনের কর্মী সুমন চন্দ্র দাস। ২০০৯ সালে ঢাকা মেডিক্যালে কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নিজ কর্মীদের হাতে খুন হন রাজিব। শুধু সুমন কিংবা রাজিব নয়, গত ছয় বছরে ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে এমন ২১ শিক্ষার্থী প্রাণ দিয়েছেন। হত্যার সব ঘটনাই ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে কিংবা প্রতিপক্ষ সংগঠনের সাথে সংঘর্ষের সূত্র ধরে সংঘটিত হয়েছে।

নিয়মিত বিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের লাশ পড়লেও কোন হত্যাকাণ্ডেরই চূড়ান্ত বিচার হয়নি। মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। কোন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়, কোনটির চার্জশিট প্রদান, আবার কোনটির তাও হয় না। অধিকাংশ মামলার আসামিরাই জামিনে মুক্ত। অনেকে সরকারি চাকরি কিংবা ব্যবসাও করছেন।
দোষীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও তাদের শাস্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন নিহতদের স্বজন-শিক্ষক এবং বন্ধুরা। খুনিদের শাস্তির জন্য অপেক্ষা করছেন সুমনের বাবা হারাধন। ছেলে হত্যার বিচারের অপেক্ষায় ৫ বছর কাটিয়ে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিহত ছাত্র আবু বকরের মা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমি কী হারিয়েছি তা শুধু আমিই জানি। আমার ছেলের সহপাঠীরা এখন চাকরি-ব্যবসা করছে। আর আমার ছেলে মাটির নিচে। খুনিদের শাস্তি হবে না?’
হত্যাকাণ্ডগুলোর দায় স্বীকার করতে বরাবরের মতই অনীহা ছাত্র সংগঠনগুলোর। ছাত্রলীগের সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, হত্যাকাণ্ডের দায় ছাত্রলীগের নয়। এরকম ঘটনায় সংগঠনের কেউ জড়িত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়।
কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের মতে, লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির জন্যই  ক্যাম্পাস অশান্ত হয়, শিক্ষার্থীরা হত্যার শিকার হয়। ছাত্র সংগঠনগুলোর লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি বন্ধ না হলে হত্যাকাণ্ডও বন্ধ হবে না।
গত ছয় বছরে ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে এমন অন্তত ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এরমধ্যে একজন শিশু ছাড়া বাকি সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এর বাইরে ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শ্রমিক হত্যার ঘটনাও রয়েছে। কোন হত্যা মামলারই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। মামলাগুলোর তদন্ত কর্মকর্তা বদলায় কিন্তু ভুক্তভোগীদের স্বজনদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অপেক্ষা শেষ হয় না। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ হারান সংগঠনটির কর্মী এবং সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সুমন চন্দ্র দাস।
শাবিপ্রবিতে অন্তর্কোন্দলের বলি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে  ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সংগঠনটির সিলেট মহানগরীর বিধান গ্রুপের কর্মী সুমন চন্দ্র দাস নিহত হয়েছেন। এ সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ প্রায় ১২ জন গুলিবিদ্ধ ও অন্তত ২৫ জন আহত হন।  শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ গ্রুপের কর্মীরা আবাসিক হলের দখল নিতে শাহ পরাণ ও দ্বিতীয় ছাত্র হলের অর্ধশতাধিক কক্ষে ভাংচুর চালায়। এ সময় তারা প্রতিপক্ষ অঞ্জন-উত্তম গ্রুপের কর্মীদের হল থেকে বের করে দেয়। পরে অঞ্জন-উত্তম গ্রুপকে সহায়তা করতে মহানগর ছাত্রলীগের বিধান গ্রুপের শতাধিক বহিরাগত কর্মী ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পার্থ গ্রুপের কর্মীদের উপর হামলা চালায়। উভয় গ্রুপের সংঘর্ষে ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ঢাবিতে বকর হত্যা, প্রহর গুনছে পরিবার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণ হারান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র আবু বকর সিদ্দীক। ছাত্র রাজনীতির সাথে তিনি জড়িত ছিলেন না।
এ ঘটনায় প্রথমে আটজনকে আসামি করা হয়েছিল। পরে আদালতের নির্দেশে ১৭ মাস পর ছাত্রলীগের ১০ নেতা-কর্মীকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার আসামিদের সকলেই জামিনে মুক্ত। তার সবাই ব্যবসা, চাকরি কিংবা রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। এ ৫ বছরে মামলায় প্রায় দুই ডজন তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছেন কিন্তু মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। আবু বকরের মা রাবেয়া বেগম ছেলের হত্যার জন্য দায়ীদের শাস্তির অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কী হারিয়েছি তা শুধু আমিই জানি। আমার ছেলের সহপাঠীরা এখন চাকরি-ব্যবসা করছে। আর আমার ছেলে মাটির নিচে। খুনিদের শাস্তি হবে না?’
ঢামেকে ছাত্রলীগ নেতা ও চমেকে ছাত্রদল নেতা হত্যা
২০০৯ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত হন ছাত্রলীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ রাজীব। এ মামলার তদন্ত এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। ঘটনার পর ৫জনকে গ্রেফতার করা হলেও মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত। অভিযুক্তদের অন্তত দুইজন সরকারের প্রথম শ্রেণির চাকরি করছেন। হত্যাকাণ্ডের পর কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল তদন্তের ভিত্তিতে ১৭ ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল। তাদের ছাত্রত্ব স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের রায়ে তারা ক্লাস-পরীক্ষার সুযোগ পান।
২০১১ সালে ছাত্রলীগের নির্যাতনে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রদল নেতা আবিদুর রহমান নিহত হন। ঐ বছরে কলেজের ডেন্টালের ছাত্র আবিদুর রহমানকে ক্যাম্পাস থেকে ধরে নিয়ে মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র সংসদের তখনকার ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা মফিজুর রহমান ও জিএস হিমেল চাকমার নেতৃত্বে ছাত্রসংসদ ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে নির্যাতন চালান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ঘটনার দুইদিন পর চিকিত্সাধীন অবস্থায় আবিদ মারা যান। আবিদের মামা নেয়ামত উল্লাহ ছাত্রলীগের ২২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের আট দিনের মাথায় হত্যা মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। ২০১৩ সালে মামলায় এজাহারভুক্ত শীর্ষ ১০ আসামিকে বাদ দিয়ে আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলাটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ খুন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৬ বছরে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দোষীদের সাজা হয়নি। ২০০৯ সালে শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে শিবিরের রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান নোমানি নিহত হন। এরপর ২০১০ সালে শিবির-ছাত্রলীগ এবং পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত হন গণিত বিভাগের ছাত্র ফারুক হোসেন। একই বছরে জাতীয় শোকদিবসে ইফতারির টোকেন ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মী নাসিরুল্লাহ নাসিমকে হলের দুই তলার ছাদ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় দলীয় কর্মীরা। ঘটনার ৮ দিন পর চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিম।
২০১১ সালে পদ্মা সেতুর জন্য উত্তোলিত চাঁদার টাকা ভাগবাটোয়ার কে কেন্দ্র করে তত্কালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় ছাত্রলীগ কর্মী ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবদুল্লাহ আল সোহেল। চলতি বছরের ৪ এপ্রিল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের কক্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম আলী আকন্দ। নোমানি হত্যার অভিযোগ ছাত্র শিবিরের দিকে হলেও বাকি হত্যাকাণ্ডগুলো ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ঘটেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও ৫ হত্যা
২০১০ সালে চট্টগ্রামের ষোল শহর রেল স্টেশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন কায়সারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মহিউদ্দিনকে নিজের কর্মী দাবি করে ছাত্রলীগ ও শিবির খুনের জন্য পরস্পরকে দায়ী করে। ঐ বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে প্রাণ হারান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুজ্জামান। ২০১২ সালে ছাত্র শিবিরের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে শিবির কর্মী মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও মাসুদ বিন হাবীব নিহত হন। চলতি বছরের ফ্রেরুয়ারিতে শিবির কর্মী মামুন হোসেন মীর ছাত্রলীগের সাথে সংঘর্ষে নিহত হন। এ হত্যাকাণ্ডগুলোর কোনটিরই চার্জশিট দেয়নি পুলিশ। শুধু নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে দ্বন্দ্ব ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সহপাঠী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পিটুনিতে চলতি বছরের ১ এপ্রিল মারা যান ছাত্রলীগের আশরাফুল হক হলের ভূতপূর্ব কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মত্স্য বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সায়াদ ইবনে মমতাজ। এ ঘটনায় সায়াদের বাবা কোন মামলা করেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করলেও তাতে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতা সুজয় কুমার কুন্ডু ও রোকনুজ্জামানকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। সায়াদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অভিযুক্ত ৩ জনকে আজীবনসহ মোট ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।
২০১৩ সালের  ১৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন পার্শ্ববর্তী বয়রা গ্রামের ১০ বছরের ছোট শিশু রাব্বী। ঘটনার পরদিন রাব্বীর বাবা ২৫ জনের নামসহ আরও ১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এজাহারে এক নম্বর আসামি করা হয় তখনকার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামছুদ্দিন আল আজাদ এবং দুই নম্বর আসামি সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান। ঘটনার দিন চারজন ও পরে আরও দুজনকে আটক করে ঐ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুবায়ের হত্যা
২০১২ সালে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের আহমেদ নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটির রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতে সাত ছাত্রকে আজীবন এবং ছয় ছাত্রকে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং তাদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। পরবর্তীতে তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে অবস্থান করেন। সর্বশেষ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তারা ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়া আসামিরা হলেন- খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মোহাম্মদ রইছ, মাহবুব আকরাম ও ইসতিয়াক মেহবুব অরূপ। দুপুরে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ জামিন আবেদনের শুনানির জন্য তাদেরকে হাজির করা হয়। বিচারক এবি এম নিজামুল হক তাদের জামিন না-মঞ্জুর করার পর পরই তারা কাঠগড়া থেকে পালিয়ে যান।
অন্যান্য হত্যা
২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি ছাত্রলীগের হামলায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রমৈত্রীর সহসভাপতি রেজওয়ানুল ইসলাম চৌধুরী নিহত হন। একই বছরের ১২ জুলাই সিলেট এমসি কলেজে ছাত্রলীগের এক পক্ষের হামলায় অপর পক্ষের কর্মী পলাশ খুন হন। এ বছরের ১৪ জুলাই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মেধাবী ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদকে বিশ্ববিদ্যালয় গেটের কাছে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী দোষী বলে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ক্যাম্পাসে গেলে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ছাত্রলীগ গঠনমূলক রাজনীতি করে :সভাপতি
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, সব হত্যাকাণ্ডই নিন্দনীয়। ছাত্রলীগ গঠনমূলক রাজনীতি করে, সন্ত্রাসের নয়। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ঘটনায় দু’-একটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এর বেশি নয়। ক্যাম্পাসের সব হত্যাকাণ্ডের দোষ ছাত্রলীগের ওপর চাপানো উচিত নয়। আর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বা অভিযোগ উঠেছে এমন সব নেতা-কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব পুলিশের এবং একাডেমিক ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগ দোষীদের প্রশ্রয় দেয় না, বরং অনেকক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশ দোষীদের প্রশ্রয় দেয়। ছাত্রলীগের যবিপ্রবি শাখার সভাপতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
লেজুড়বৃত্তি রাজনীতিই দায়ী :অধ্যাপক আনোয়ার

শিক্ষাঙ্গনে হত্যা সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি আমাদের শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করে ফেলছে। শিক্ষার্থীদের অধিকারের আন্দোলনে ছাত্র সংগঠনগুলোকে পাওয়া যায় না। কিন্তু আন্দোলন দমাতে তারা সক্রিয়তার পরিচয় দেয়। ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্রদল অথবা শিবির, সব সংগঠনই দলের প্রতি দায়বদ্ধ, শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। তারা মূল সংগঠনের লেজুড়ে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, মূল সংগঠনের নেতারা তাদের প্রভাব-বলয় ঠিক রাখার জন্য ছাত্রনেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেন।