গেল সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষে ছিল উচ্চ দামের কোম্পানিগুলো

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৪, ১৭:০৪
 
 
 
 
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির আয়ের তুলনায় শেয়ারের দাম অনেক বেশি বা ঝুঁকিপূর্ণ, সে সব কোম্পানি গেল সপ্তায় দাম বাড়ার শীর্ষে উঠে এসেছে। দাম বাড়ার শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানির সাতটিই উচ্চ পিই রেশিও সম্পন্ন কোম্পানি। শেয়ারবাজারে কোনো কোম্পানির পিই রেশিও (আয়ের তুলনায় দাম) ৪০-এর ওপরে উঠে গেলে তাকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিরিক্ত দামের কোম্পানি বলে বিবেচনা করা হয়। এ সাত কোম্পানির পিই রেশিও ৪০-এর বেশি।
ডিএসইর এক ঊর্ধ্বতন কমকর্তা বলেন, যদি কোনো কোম্পানির ভবিষ্যতে ভালো করার সম্ভাবনা থাকে, সে ক্ষেত্রে পিই রেশিও বেশি হলেও ওই কোম্পানির শেয়ার কেনা ঝুঁকিপূর্ণ নয়।এ ছাড়া, হঠাত্ করে কোনো প্রান্তিকে কোম্পানির আয় কোনো কারণে কমে পিই রেশিও বেড়ে যেতে পারে।সে ক্ষেত্রেও ওই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয় না। অন্যথায় যে সব কোম্পানির পিই রেশিও ৪০ বা তার বেশি, সে সব কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে কেউ যদি পিই রেশিওর ঝুঁকি বিবেচনা না করে শেয়ার ক্রয় করেন, তবে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে অনেক বেশি। সাধারণত, কারসাজির কারণে এ সব কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে যায়।
ডিএসইর তথ্যে দেখা গেছে— গেল সপ্তাহে দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল জেএমআই সিরিঞ্জ। ২০১৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আয়ের ভিত্তিতে এ কোম্পানির পিই রেশিও ৪৫ দশমিক ২২। উচ্চ দাম সত্ত্বেও গেল সপ্তাহে এ কোম্পানির দর বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি টাকার শেয়ার। দরবৃদ্ধির তালিকায় চতুর্থ ছিল হাক্কানি পাল্প। এ কোম্পানির দর বেড়েছে ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের আয়ের ভিত্তিতে এ কোম্পানির পিই রেশিও ৪৯। দরবৃদ্ধির তালিকায় পঞ্চম স্থানে ছিল বিডি থাই এলুমিনিয়াম। তৃতীয় প্রান্তিকের আয়ের ভিত্তিতে এ কোম্পানির পিই রেশিও ৪৪। সপ্তাহশেষে বিডি থাইয়ের শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ ছাড়া, এ সপ্তাহে সিভিও পেট্রোক্যামিকেলের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ। অথচ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের আয়ের ভিত্তিতে এ কোম্পানির পিই রেশিও ১২২। আর ২০১৩ সালের আয়ের ভিত্তিতে পিই রেশিও ১২১৩। এ ছাড়া, শেয়ারদর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় থাকা সোনালি আঁশের পিই রেশিও ২০৬। ওয়াটা ক্যামিকেলের পিই রেশিও ৪৪ দশমিক ১৬।

এ দিকে, গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে। আর সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ৮৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭০ পয়েন্ট। একই সঙ্গে কমেছে ডিএস-৩০ মূল্যসূচকও। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৬২৭ কোটি ১ লাখ টাকার, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭৫৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাত্, এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১৭ শতাংশ। শেয়ার হাতবদলের পরিমাণও কমেছে গেল সপ্তাহে। এ সপ্তাহে শেয়ার হাতবদল কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ।