সার্কভুক্ত দেশগুলোর যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের (প্রোগ্রামিং কমিটি) বৈঠকের মধ্য দিয়ে শনিবার নেপালের কাঠমান্ডুতে শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) ১৮তম সম্মেলন।
সম্মেলনের পূর্ববর্তী বৈঠকগুলোতে অংশ নিতে ইতিমধ্যে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে কাঠমান্ডু এসে পৌঁছেছেন। বৈঠকে আঞ্চলিক সম্মেলনের এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, যুগ্ম সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সার্কের তিনটি কেন্দ্র বন্ধ ও চারটি কেন্দ্রকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সার্ক তথ্য কেন্দ্র, সার্ক মানব উন্নয়ন কেন্দ্র ও সার্ক নথি সংগ্রহকরণ কেন্দ্র বন্ধ হচ্ছে আর একীভূত হচ্ছে সার্ক বনায়ন কেন্দ্র, সার্ক দুর্যোগ মোকাবেলা কেন্দ্র, সার্ক উপকূল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ও সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র। এই একীভূত হওয়া চারটি কেন্দ্রের কার্যালয় ঢাকায় স্থাপনের বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও মালদ্বীপও তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মাহেন্দ্র বাহাদুর পান্ডে সিনহুয়াকে বলেন, যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের বৈঠকে কোনো ইস্যু অমীমাংসিত থাকলে তা সরকার প্রধানদের সম্মতিতে সার্ক কাউন্সিল অব মিনিস্টারস এর ৩৬তম বৈঠকে চূড়ান্ত হবে।
পান্ডে আরো জানান, সংযুক্তি ও মতামত প্রদানের জন্য ইতিমধ্যে দেশগুলোর কাছে সার্ক ঘোষণার খসড়া পাঠানো হয়েছে। সার্কের বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সার্ক ঘোষণা চূড়ান্ত করা হবে।
সার্কভুক্ত দেশের প্রতিনিধি ছাড়াও সার্কের নয় পর্যবেক্ষক দেশের প্রতিনিধিরাও ইতিমধ্যে কাঠমান্ডু পৌঁছেছেন। সার্করাষ্ট্রগুলো প্রত্যাশা করছে, এবারের সম্মেলনে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও পর্যবেক্ষক দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে আজ ও আগামী সোমবার পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির ৪১ তম বৈঠক এবং ২৫ নভেম্বর কাউন্সিল অব মিনিস্টারস (পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের) এর ৩৬তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের পক্ষে স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং কাউন্সিল অব মিনিস্টারস এর সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী নেতৃত্ব দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেবেন ২৬ ও ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে।
