চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মেডিক্যাল ভার্সিটি হচ্ছে--- প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৪, ০১:৫৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভোট দেওয়া নাগরিকের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অধিকার। জনগণই সিদ্ধান্ত নিবেন, তারা কাকে ভোট দিবেন। তবে কে কাকে ভোট দিচ্ছে এসব বিবেচনা করে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা যাবে না। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সেবা পাওয়াটা সবার মৌলিক অধিকার। এক্ষেত্রে আমরা কোন রাজনীতি করিনি, করবোও না। জনগণের কল্যাণেই আমরা রাজনীতি করি। তিনি উন্নত চিকিত্সা সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আরো দুটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য খাতে ভালোভাবে উন্নত সেবা দিতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যত্ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী জাতি গড়াই আমাদের সরকারের লক্ষ্য।

গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর শাহবাগস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নবনির্মিত দুটি আউটডোর কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত প্রমুখ।
১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল তত্কালীন পিজি হাসপাতালকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন দেশে একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে না, এটা কিভাবে  হয়? সে সময় বিরোধী দলের সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনস্টিটিউশনাল রিভিউ বোর্ড (আইআরবি)’ গঠন করা হয়েছে। আমি আশা করব চিকিত্সা গবেষণার ক্ষেত্রে আপনারা আরো মনোযোগী হবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি সেনাবাহিনীকে বলে দিয়েছি, যেখানে পাঁচশ বেডের হাসপাতাল আছে, সেখানে মেডিক্যাল কলেজ করা যাবে। তিনি মেডিক্যাল কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন। এছাড়া কমলাপুরের রেল হাসপাতালকে জেনারেল হাসপাতালে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে বলেন সংশ্লিষ্টদের। ঢাকাকে উত্তর, দক্ষিণ জোনে ভাগ করে হাসপাতাল নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চালু করা ৬ হাজার কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক বিএনপি-জামায়াত সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল। তাদের এ সিদ্ধান্ত ছিল নিষ্ঠুর। তবে বর্তমান সরকার ক্লিনিকগুলো পুনরায় চালু করেছে। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ২৩টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ আছে। আরো পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজ চালুর প্রক্রিয়া চলছে। গত ছয় বছরে ছয়টি ডেন্টাল কলেজ, পাঁচটি হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, সাতটি নার্সিং কলেজ ও ১২টি নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরেন তিনি।
গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, নার্সের যথেষ্ট ঘাটতি আছে। তাই আরো নার্স নিয়োগ দিতে হবে। চিকিত্সক নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৮ হাজার ৮৫৭ জন সহকারি সার্জন ও সহকারি ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এডহক ভিত্তিতে ৪ হাজার ১৩৩ জন সহকারি সার্জন নিয়োগ করা হয়েছে। অতীতে এত নিয়োগ কেউ দেয়নি।
চিকিত্সকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগীর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতে হবে। এতে রোগীর মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করাটা বেশি দরকার। একজন ডাক্তার যতই ওষুধ খাওয়ান, তার চেয়ে বেশি ভালো হয় রোগীর সাথে একটু আলাপ করলে, কথা বললে, তাদের বুঝিয়ে দিলে। এদিক চিন্তা করেই চিকিত্সা দিবেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মস্তিষ্কপ্রসূত মানসিক প্রতিবন্ধী (অটিজম) শিশুদের চিকিত্সা ও সুরক্ষা কার্যক্রম এবং হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিক আন্তর্জাতিকভাবে একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্বাস্থ্য প তিমন্ত্রী জাহিদ মালিক।