মোবারকের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় সোমবার

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৪, ১১:৪৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় সোমবার ঘোষণা করা হবে। রবিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ২ জুন মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে মোবারকের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
মোবারকের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে দাবি করে তার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কামনা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। অপরদিকে আসামির বিরুদ্ধে আনা জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ (জেসিই) ও সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটিসহ কোন অভিযোগ প্রমাণ হয়নি দাবি আসামিপক্ষের। তাই এ মামলা থেকে মোবারক হোসেন অব্যাহতি পাবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।
উল্লেখ্য, মোবারকের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, অপহরণ, আটক ও নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী চার ধরনের অপরাধে পাঁচটি অভিযোগে গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ঐ বছরের ১২ মার্চ মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৩ এপ্রিল মোবারকের বিরুদ্ধে হত্যা, আটক, নির্যাতন ও অপহরণের ৫টি অভিযোগ গঠন করা হয়।
একই বছরের ১৬ মে সূচনা বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। ২০ মে থেকে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১২ জন সাক্ষী মোবারকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে। অপরদিকে, আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে মাত্র দুই জন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে উভয়পক্ষ প্রায় তিন দিন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মোবারক একাত্তরে স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। একাত্তর পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করলেও পরে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং এক পর্যায়ে আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। দুই বছর আগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
একাত্তরে একটি হত্যাকাণ্ডের র অভিযোগে ২০০৯ সালের ৩ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার মামলা যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। পরে কয়েক দফায় তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন ট্রাইব্যুনাল। সর্বশেষ ১২ মার্চ তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নিয়ে জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।