গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর মুহাম্মাদ ইউনূস বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী সুদৃঢ় এবং বেকারত্বের হাহাকার দূর করতে তরুণ-যুবকদের অবশ্যই উদ্যোক্তা হতে হবে।’
লন্ডন স্কুল অফ ইকোনোমিক্সের (এলএসই) গেস্টরুমে ২১ নভেম্বর তিনি ইত্তেফাককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। বিশেষ করে তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণ-যুবকদের চাকরি করার মানসিকতা পরিহার করে আতœনির্ভশীলতার পথ খুঁজে বেড় করার পরামর্শ দেন।
ড. ইউনূস বলেন, ‘তাদের মননে পরিবর্তন এনে সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করতে হবে যে কোয়ালিটি অব লাইফ’র জন্য চাকরি নয়। তাদেরকে সৃষ্টিশীল কিছু করার মধ্য দিয়ে উন্নত জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। জনগোষ্ঠীর বিশাল একটা অংশ তরুণ-যুবক। এটা অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক। তারা একক অথবা গ্রুপভিত্তিক কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। অন্তত ৫ জনে মিলে একটি কর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ার সুযোগ রয়েছে। এজন্য সরকার বা রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাওয়ার আছে এই ভাবনাও পরিহার প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, নিজ উদ্যোগে শুধু ট্যালেন্ট বিনিয়োগ করে তরুণদের আত্মপ্রতিষ্ঠা সম্ভব। বাংলাদেশের জন্য তরুণ-যুবক জনগোষ্ঠী চমৎকার একটি সম্ভাবনা। এদের ২ মিলিয়নেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী। তাদের প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষাগ্রহণ। এর মানে এই নয় যে সকলকে বিদেশে গিয়ে নামিদামি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন।
তিনি বলেন, শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বেড়ে ওঠা পশ্চিমা জগতের তরুণদের মানসিকতা ছিলো চাকরি নির্ভর। তারা শিক্ষা শেষে জব খোঁজে। সেখানেও পরিবর্তন এসেছে। সমকালীন প্রেক্ষাপটে তারা নিজেরা কিছু করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এসব দেশের তরুণদের উদ্দেশেও আমি একই আহ্বান জানিয়ে আসছি। দেখা গেছে গত এক বছরে ১৫ ভাগ তরুণ চাকরি খোঁজার মানসিকতা থেকে বেড়িয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।
ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট একটি দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। ১২০ মিলিয়ন মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে। বিশেষ করে তরুণ-যুবকদের জন্য। এটা তারা ভালোভাবে তাদের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। তবে এটা ফলপ্রসূ নয় এমন অনুর্ভরখাতে ব্যবহার করার মাধ্যমে অলস সময়ে পার করলে তা হবে দুঃখজনক। এটা তারা শিক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি আদান-প্রদানসহ সৃষ্টিশীল কিছু করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অব¯’া সম্পর্কে বলেন, দারিদ্রতা হ্রাস পা”েছ। প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। সহস্্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে অনেক সূচকে সাফল্য আছে। শিশুমৃত্যু হার, সেনিটেশন, হত দারিদ্রতা কমে আসা শুভলক্ষণ। সাউথ এশিয়ার মধ্যে আমাদের প্রবৃদ্ধি সন্তোসজনক। টেকসই উন্নয়ন করতে সামাজিক অ¯ি’র তাকে ¯ি’তিশীলতায় নিয়ে আসতে প্রয়োজন মানুষের মন-মানসিকতার পরিবর্তন।
উল্লেখ্য, এলএসইরওল্ড থিয়েটার হলে ‘এ কনভারসেশন উইথ প্রফেসর মুহাম্মাদ ইউনূস’ শিরনামে ওই দিন বিকেলে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে লন্ডন ও ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী উপ¯ি’ত ছিলেন। এ সেমিনারে ড. ইউনূস তাঁর জীবন কর্ম, গ্রামীণব্যাংক’র সাফল্য, সমালোচনার পাশাপাশি তরুণদের উদ্দেশে নৈতিক শিক্ষার ওপর বক্তৃতা করেন। এ সময়ে শিক্ষার্থীরা করতালি দিয়ে তাঁর বক্তব্যকে স্বাগত জানান।
