সাজিদের স্ত্রী জেএমবি নারী শাখার প্রধান

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৪, ১৯:৪৩
 
ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত জেএমবি ( জঙ্গি) নেতা  শেখ রহমতুল্লাহ সাজিদ ওরফে মাসুমের স্ত্রীকে ফাতেমা আক্তার ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছেন। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে আরও তিনজন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)  জানিয়েছে, নারী জেএমবির মহিলা শাখার প্রধান ফাতেমাকে শনিবার রাতে তাদেরকে সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
অপর একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ডিবির  একটি দল কেরানীগঞ্জের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাজিদের দুই বছরের শিশুসহ স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া তথ্য মতে গ্রেফতার হয় সাজিদের সহযোগী আব্দুল্লাহ কাজী, ইশরাত আলী শেখ ও শওকত হোসেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু জিহাদি বই, বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম।
রবিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য  ফাতেমাকে দুই মামলায় ৬ দিন ও অপর তিনজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। 
 গত ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণের পর ৮ নভেম্বর পশ্চিম বঙ্গের পুলিশ সাজিদকে গ্রেফতার  করে। এর পরপরই সাজিদের স্ত্রী-সন্তানসহ সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে কেরানীগঞ্জের এক আত্মীয়ের বাসায় আগ্মগোপন করে। কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জের ফরাজীকান্দা গ্রাম র্যাব গ্রেফতার করে  সাজিদের বড় ভাই  মনাকে।
এ দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক  সংবাদ সম্মেলন ফামেতাসহ চারজনকে  গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত জানান যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
তিনি জানান,  ফাতেমা আক্কার  বর্ধমান বিস্ফোরণের সময় তার স্বামীর সঙ্গে ঘটনাস্থলের পাশেই অবস্থান করছিলেন। তিনি ঐ এলাকার  শিমুলিয়ায় এক মাদ্রাসায়  জঙ্গি প্রশিক্ষণও দিতেন। 
গ্রেফতারকৃত অপর তিনজন জেএমবিতে যোগ দেয় ২০০৪ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে। ২০০৫ সালে তারা গোপালগঞ্জে ব্র্যাক ব্যাংক ডাকাতিতে অংশ নিয়ে গ্রেফতা হয়। সে সময় সাজিদও তাদের সঙ্গে গ্রেফতার  হয়েছিলেন।এরপর ২০১১ সালে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই তারা পলাতক ছিলেন।
অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ফাতেমা বর্ধমান বিস্ফোরণের পর ভারতের ঝাড়খন্ডে পালিয়ে ছিলেন। পরে তিনি পালিয়ে বাংলাদেশ আসেন।
যুগ্মকমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, ভারতের শিমুলিয়ায় এক মাদ্রাসায় তিনজন নারী জেমবির নারী সদস্যদের প্রশিক্ষন দিতেন, তাদের মধ্যে ফাতেমা একজন। তিনিই ঐ প্রশিক্ষণের  সমন্বয় করতেন।
 
ঐ মাদ্রাসায় দরিদ্র মেয়েদের পড়াশোনার পাশাপাশি খাওয়া দাওয়ারও ব্যবস্থা ছিল। তাদের মধ্যে যারা চৌকস, তাদের জেএমবিতে যুক্ত করতেন ফাতেমা।
তিনি আরও জানান, ঐ মাদ্রাসায় শারীরিক শিক্ষার পাশাপাশি এয়ারগান দিয়ে অস্ত্রচালনা শেখানো হতো বলে তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছেন।সেখানে অন্তত ২৫ জন নারী প্রশিক্ষন নিয়েছে। এর মধ্যে ছয় জন বাংলাদেশি, বাকিরা ভারতীয়। সবাই এখন পলাতক।
মনিরুল ইসলাম জানান, সমপ্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) কর্মকর্তারা যেসব পলাতক জঙ্গির বিষয়ে কথা বলেছেন, তাদের কারো সঙ্গে ফাতেমা বা তার সঙ্গে আটকদের যোগাযোগ ছিল কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিবির উপ-কমিশনার ( দক্ষিণ) কৃষ্ণ পদ রায়, উপ-কমিশনার ( উত্তর) শেখ নাজমুল আলম, উপ-কমিশনার ( মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।