আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত হওয়া আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আগাম জামিন নিতে সোমবার বেলা ১১টার পর হাইকোর্টে গেছেন। তার আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন এ কথা জানিয়েছেন। লতিফ সিদ্দিকী গতকাল রবিবার রাতে ঢাকায় ফিরেছেন। রাত ৮টা ২১ মিনিটে তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছান। গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা তাকে বিমানবন্দর থেকে বের হতে না দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জে বসিয়ে রাখেন। পরে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে হঠাত্ করে তিনি ভিআইপি গেটে অপেক্ষমাণ একটি সিলভার রঙ্গের প্রাইভেটকারে (ঢাকা মেট্রো-গ৩৫-৭৭৮৫) করে বিমানবন্দর এলাকা ছেড়ে চলে যান। সে সময় টের পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি মোটরসাইকেল তাকে ধাওয়া করলেও আটকাতে পারেনি। এদিকে ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই তাকে গ্রেফতারের দাবিতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত।
বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী কলকাতায় আসেন। তারপর থেকে তার সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে গতকাল বিকালে কলকাতা বিমানবন্দরে তাকে দেখতে পাওয়া যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার ঢাকাগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ওঠার জন্য তিনি সেখানে যান। সেখানকার সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি খবুই ক্লান্ত। এখন কিছু বলবো না। ঢাকায় পৌঁছে যা বলার বলব। প্রধানমন্ত্রী যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তাই হবে।
প্রসঙ্গত, নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিতর্কিত মন্তব্য করেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। তাকে সংবর্ধনা দিতে জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘টাঙ্গাইল জেলা সমিতি’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘হজ্বে ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজ্বের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’ তিনি বলেন, ‘গড়ে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজ্বে যায়, প্রত্যেকের ৫ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়।’
তাবলিগ জামায়াতের সমালোচনা করে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘তাবলিগ জামাত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাম নাই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’
সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেন লতিফ সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে একজন সাংবাদিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভূমিকা নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চাইলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। জয় ভাই কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন।’ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘যারা টক শো-তে যায়, তারা টকম্যান। নিজেদের কোনো কাজ না থাকায় ক্যামেরার সামনে গিয়ে তারা বিড়বিড় করে।’
আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন দল এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার এবং গ্রেফতারের মাধ্যমে বিচারের সম্মুখীন করার দাবি ওঠে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনায় হয়। পরে তাকে আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি মামলায় গত ১৫ অক্টোবর হাজিরার দিনে তিনি আদালতে না আসায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গতকাল রবিবার ওই পরোয়ানা জারি সংক্রান্তে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে কোন প্রতিবেদন না আসায় ঢাকার মহানগর হাকিম ইউনুস আলী খান আগামী ৩০ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির অভিযোগে দন্ডবিধির ২৯৫ (ক), ২৯৮ ও ৫০০ ধারার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগের এই নেতার বিরুদ্ধে গত ২ অক্টোবর মামলাটি করেন অ্যাডভোকেট শাহালম। ওইদিন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।
এদিকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ঢাকা এসেছেন এ খবর প্রকাশ পেলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত তাকে গ্রেফতার করার জন্য আল্টিমেটাম ঘোষণা করে। তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা না হলে আহলে সুন্নত ওয়ালা জামাত কঠোর আন্দোলনে যাবে।