৩৭ জলদস্যু বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে উপকূল

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৪, ০১:৩৪

উপকূলের বিশাল এলাকা সুন্দরবন, সোনাদিয়া, কুতুবদিয়া ও বাঁশখালীর ৩৭টি জলদস্যু বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে। সেখানে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। জলদস্যুরা সাগরে খুন, লুটপাট, অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপকর্ম চালিয়ে মাঝি-মাল্লাদের নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। গত ৫ দিনে বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন এলাকার জলদস্যুরা ৫০টি মাছ ধরার ট্রলার ও কয়েকশ’ মাঝি-মাল্লাকে ধরে নিয়ে গেছে।

গত শনিবার রাতে কক্সবাজার শহরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি এসব তথ্য জানায়। দ্রুত জেলে ও মাঝিদের উদ্ধারে মালিক সমিতি ৫ দফা দাবি পেশ করেছে। অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দেয়া হয় সাংবাদিক সম্মেলন থেকে।
সমিতির সভাপতি ও শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। এসময় তিনি বলেন, গত ১৮ নভেম্বর থেকে জলদস্যুদের হাতে ৫০টি ফিশিং ট্রলারসহ কয়েকশ’ মাঝি-মাল্লা অপহূত হয়েছে। মূলত সুন্দরবন, সোনাদিয়া, কুতুবদিয়া ও বাঁশখালীর ৩৭টি জলদস্যু বাহিনী এখন বঙ্গোপসাগরে রাজত্ব করছে। এদের মধ্যে সোনাদিয়ার মোকারম জাম্বু বাহিনী, সরওয়ার বতইল্লা বাহিনী, আঞ্জু মিয়া বাহিনী, রুহুল আমিন বাহিনী, ফারুক বাহিনী, মকছুদ বাহিনী, সাইফুল বাহিনী, মোবারক বাহিনী, সুমন বাহিনী, আবদুল মোনাফ বাহিনী, নাগু বাহিনী, শফিক বাহিনী, রাকিব বাহিনী, সিরাজ বাহিনী (বর্তমানে থাকে শহরের চরপাড়ায়), কুতুবজোমের আব্দুস সবুর বাহিনী,            পুটিবিলার সামশুল মাঝি বাহিনী, শহরের নূনিয়াচড়ার ফারুক বাহিনী, কুতুবদিয়ার ইউনুছ (রমিজ ডাকাতের ভাই), কাউছার (রমিজ ডাকাতের সহযোগী) বাহিনী, কানা দিদার বাহিনী, সর্দার বাদল বাহিনী, সাহেদ বাহিনী,  আবুল কাশেম আবুইয়া বাহিনী, আকবর বাহিনী, বাদশা বাহিনী, রুহুল কাদের বাহিনী, ছালেহ আহমদ বাহিনী, রুবেল বাহিনী, কালামারছড়ার জাহাঙ্গীর বাহিনী, বাঁশখালীর বাইশ্যা বাহিনী, রবি বাহিনী, মাতারবাড়ীর শিমুল বাহিনী, জয়নাল বাহিনী, চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর আহমদ নবী বাহিনী ও পেকুয়া রাজাখালীর সেলিম বাহিনী অন্যতম। এছাড়া ডাকাতদের গডফাদার রাজাখালীর হারুণ বলে সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করা হয়।
জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, জলদস্যুরা প্রায় সকলেই সরকারি দলের রাজনীতির সাথে জড়িত। ফলে প্রশাসন এসব জলদস্যুদের ধরতে ভয় পাচ্ছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, জলদস্যুদের গডফাদার হিসাবে কাজ করছে প্রভাবশালীরা।

সমিতির ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে সুন্দরবন এলাকার জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অপহূত ফিশিং বোট ও মাঝি মাল্লাদের উদ্ধার করা, গভীর সাগরের ২০টি পয়েন্টে দিবা-রাত্রি নৌ-বাহিনীর স্থায়ী টহল জোরদার করা, বাঁকখালী নদীতে স্থাপিত কোস্টগার্ডের স্থায়ী ক্যাম্প মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে স্থানান্তর করা, অপহূত ও নিখোঁজ মাঝি-মাল্লাদের পরিবারকে সরকারের তরফ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা এবং কোস্টগার্ড কর্তৃক মাঝি-মাল্লাদের উপর শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা।