বর্তমানে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের নামে প্রতারণা চলছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান দেশের নামি-দামি কোম্পানির নাম ব্যবহার করেই এ প্রতারণা করছে । বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের ব্রান্ড ওষুধের অবিকল মোড়কে কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান নকল ওষুধ বাজারে বিক্রি করছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আটা ও ময়দা ইত্যাদি ভেজাল দিয়ে ওষুধ বাজারজাত করা হচ্ছে।
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরো জানান, ভেজাল ও নকল ওষুধ প্রতিরোধে পরিকল্পনা ও শান্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। ভেজাল ওষুধ উত্পাদন ও বাজারজাত করার বিরুদ্ধে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর সর্বদাই সচেষ্ট রয়েছে। ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে ওষুধ প্রশাসনের প্রধান কার্যালয় ও জেলা পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তারা প্রতি সপ্তাহে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত নকল ও ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ওষুধ আইন লংঘনের দায়ে এ পর্যন্ত ৪৬৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৬৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা ও ৩৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এছাড়া ভেজাল ওষুধ উত্পাদন/বিক্রয়কারী ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওষুধ আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি জানান, ঢাকা মহানগরীতে ৮৬২টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।
দেশে ইবোলা রোগী নেই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে ইবোলা রোগী নেই। ইতোমধ্যে ইবোলা আক্রান্ত আফ্রিকান দেশ হতে বাংলাদেশিরা ফিরে এসেছে। চলতি বছর ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত দেশ হতে ৮১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছে। তাদের সকলের পরিচয় জানা আছে।
তিনি জানান, ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে দেশের প্রত্যেক আন্তর্জাতিক প্রবেশ বন্দরে (তিনটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, ২টি নৌ বন্দর ও ২২টি স্থল বন্দর) মেডিকেল টিম গঠন করে সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত করতে যাত্রীদের স্ক্যানিং কার্যক্রম চালু আছে। এ কার্যক্রমের জন্য ৭টি থার্মাল স্ক্যানার ক্রয় করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তিনটি, হযরত শাহ আমানত বিমান বন্দরে একটি, এম এ জি ওসমানী বিমান বন্দরে একটি এবং বেনাপোল স্থল বন্দরে একটি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও জরুরি অবস্থা মোকাবেলার জন্য একটি থার্মাল স্ক্যানার মজুদ রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরো জানান, সুস্থ যাত্রীদের ২১ দিন পর্যন্ত বিশেষ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে আইইডিসিআর-এ ল্যাবরেটরী পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চলতি বছর ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ইবোলা আক্রান্ত দেশ থেকে ২১৬ জন যাত্রী দেশে প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে ১৮২ জন যাত্রীর ২১ দিনের বিশেষ পর্যবেক্ষণ শেষ হয়েছে।
হাজী মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বেসরকারি হাসপাতালের তদারকিতে জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে টিম আছে। মেট্রোপলিটন এলাকায় বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং ঢাকা মহানগরীর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদফতর গঠিত নির্ধারিত তদারকি টিম রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, বিগত অর্থ বছরে অনেকগুলো মনিটরিং টিম কাজ করেছে। অনিয়মগুলো হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, বহিরাগত লোকদের আনাগোনা, ডাক্তারদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ সকল অনিয়ম স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দেশের বিদ্যমান ও প্রচলিত আইনের আওতায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
