মোবারকের ফাঁসির আদেশ

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৪, ১২:২৯
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন।
মোবারকের বিরুদ্ধে আনীত পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে ১ নম্বর অভিযোগের জন্য তাকে মৃত্যুদ- ও ৩ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়  যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া ২, ৪ ও ৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ না হয় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।
মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো হলো: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার টানমান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামে ৩৩ জনকে হত্যা, আনন্দময়ী কালীবাড়ী রাজাকার ক্যাম্পে আশুরঞ্জন দেবকে নির্যাতন, ছাতিয়ান গ্রামের আব্দুল খালেককে হত্যা, শ্যামপুর গ্রামের দুজনকে অপহরণ করে একজনকে হত্যা এবং খরমপুর গ্রামের একজনকে আটক রেখে নির্যাতন।
একাত্তরে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০০৯ সালের ৩ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোবারকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঐ মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে এই মামলাটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০১২ সালের ১৫ জুলাই মোবারক হোসেন এ মামলায় ট্রাইব্যুনাল থেকে দুই মাসের জামিন পান। এরপর কয়েক দফায় ঐ জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি মোবারকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগপত্রে মোবারকের বিরুদ্ধে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঐ বছরের ১২ মার্চ মোবারকের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ২৩ এপ্রিল হত্যা, অপহরণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী পাঁচটি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ঐ বছরের ২০ মে মোবারকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১২ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২ জুন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল-১।