সংসদেও লতিফকে গ্রেফতারের দাবি

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৪, ২১:৫০
আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর দেশে ফেরা নিয়ে সোমবার জাতীয় সংসদে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা অবিলম্বে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও লতিফ সিদ্দিকী কীভাবে নির্বিঘ্নে দেশে ফিরল? কেন তাকে গ্রেফতার করা হলো না? এ ইস্যুতে সুযোগসন্ধানী মৌলবাদী গোষ্ঠীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।
স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর বিতর্কের সূত্রপাত করেন প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। এ ইস্যুতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনএফ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম ও ডা. রুস্তম আলী ফরাজি।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু নির্বিঘ্নে লতিফ সিদ্দিকীর দেশে ফেরার ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, লতিফ সিদ্দিকী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে সংবিধান লংঘন করেছেন। দেশে আইনের শাসন রয়েছে। অনেকগুলো গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও লতিফ সিদ্দিকী দেশে আসল কীভাবে? তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না কেন? তিনি কীভাবে নির্বিঘ্নে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে পারলো?
তিনি বলেন, মৌলবাদি গোষ্ঠী এটা নিয়ে যাতে রাজনীতি করতে না পারে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি মনে করি, লতিফ সিদ্দিকী মৌলবাদি গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করেছেন, তাদের সহায়তা করছেন। তাই এ ব্যাপার কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে মৌলবাদী শক্তির উত্থান অঙ্কুরেই ধ্বংস করতে হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম বলেন, বিমানবন্দরে এতো গোয়েন্দা সংস্থা থাকতেও কেন এতো স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে? লতিফ সিদ্দিকী কীভাবে নির্বিঘ্নে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে গেল? গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করলো? উনি তো ছদ্মনাম নিয়ে দেশে আসেননি? জনগণ বলছে সরকারের গ্রিনসিগন্যাল নিয়েই লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরেছেন। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর গ্রিনসিগন্যাল দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। প্রধানমন্ত্রী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করেন- তাই উনি (প্রধানমন্ত্রী) ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া লতিফ সিদ্দিকীকে কোনভাবেই বরদাস্ত করবেন না। তাই অবিলম্বে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার। তিনি এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন।
আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজি বলেন, প্রধানমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে শুধু মন্ত্রীসভা থেকে নয়, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও বহিষ্কার করেছেন। এরপরও কোন সাহসে তিনি দেশে ফিরলেন?
বিএনএফে’র চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বাংলাদেশের একজন নাগরিক। এখনও নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদের এমপি। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, স্পীকারের অনুমতি ছাড়া কোনো এমপিকে গ্রেফতার করা যায় না। তাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে রাখা উচিত। 
জবাবে সরকারি দলের সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, লতিফ সিদ্দিকী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মীই সহজভাবে মেনে নেয়নি, সবার সঙ্গে সমব্যার্থী। কিন্তু সাংবিধানিকভাবে দেশ চলছে, তাই যখন যা খুশী তা করা যায় না। কোন নাগরিককে দেশে ফিরতে সরকার যেমন বাধা দিতে পারে না, তেমনি গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আইন-শৃৃঙ্খলাবাহিনী কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না। সরকার যথাসময়েই এ ব্যাপারে  (গ্রেফতার) ব্যবস্থা নেবে।
সরকারি দলের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সংবিধান স্পিকারকে এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা দেয়নি যে তিনি কারোর এমপি পদ কেড়ে নিতে বা দিতে পারেন। সংবিধান অনুযায়ী কোন আসন শুন্য হলে স্পিকার তা নির্বাচন কমিশনকে জানাতে পারেন। আর কোন এমপিকে গ্রেফতার করতে স্পিকারের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয় না। কোনো সংসদ সদস্য’র বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকে তবে সংবিধানে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তারা যে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে সংবিধানে বলা আছে, কোন এমপি গ্রেফতার হলে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে তা স্পীকারকে জানাতে হবে, জানার পর স্পীকার তা সংসদকে অবহিত করবেন।
তিনি বলেন, সাংবিধানিকভাবে দেশ চলছে, তাই যখন যা খুশি তা করা যায় না। লতিফ সিদ্দিকীকে দেশে ফেরার ব্যাপারে বাধা দেয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই। দল দলের কাজ করেছে, সরকার সরকারের কাজ করবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে যতক্ষণ না পর্যন্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা না আসবে, ততক্ষণ তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। আমরা আদালতের দিকে তাকিয়ে আছি। আদালতের নির্দেশ এলেই ব্যবস্থা নেবে সরকার। আইনের শাসন সবার জন্য প্রযোজ্য, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। এ ইস্যুতে তবে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে। এ নিয়ে কেউ যদি মনে করেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করবেন- তা হবে না। সরকার যথাসময়ে এ ব্যাপারে (লতিফ সিদ্দিকী) ব্যবস্থা নেবে।