ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত হওয়া আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফেরার পর থেকে কোথায় রয়েছেন তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার রাতে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছানোর পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল দিয়ে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তার সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরলেও লতিফ সিদ্দিকী কোথায় আছেন সে সম্পর্কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ গোয়েন্দারা কিছুই বলছে না। এমনকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আছে কিনা সেটা নিয়েও স্পষ্ট কোন তথ্য জানা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার সারাদিনই গণমাধ্যমকর্মীরা তার খোঁজ জানার চেষ্টা করেছেন। তিনি থাকতে পারেন এমন সম্ভাব্য স্থানসহ বাড়ি এবং আদালত এলাকায় খোঁজ-খবর নিয়েও তার সম্পর্কে কোন তথ্য জানতে পারেনি। তিনি গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
উল্লেখ্য, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেশের ১৮টি জেলায় ২২টি মামলা দায়ের করা হয়। তিনি বিদেশে থাকায় কোন মামলাতে আদালতে হাজির হতে পারেননি। এ কারণে প্রত্যেক মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিভিন্ন মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন চাইবেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। ইতিমধ্যে আগাম জামিনের আবেদন প্রস্তুত করার জন্য তার পক্ষ থেকে কয়েকজন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আজ-কালের মধ্যে আগাম জামিনের আবেদন দাখিল করা হবে বলে ওই আইনজীবীরা জানিয়েছেন। অপর দিকে উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে লতিফ সিদ্দিকীকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন একদল আইনজীবী। ওই আইনজীবীরা গতকাল বেলা সাড়ে ১২টায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি সমিতি ভবনের প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করার পর সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সমাবেশে অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, হজ্ব ও মহানবীকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন লতিফ সিদ্দিকী। বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল হক তালুকদার রাজা, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, অ্যাডভোকেট শরীফ ইউ আহমেদ প্রমুখ।
আদালত সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সোমবার আইনজীবী ড. ইউনূস আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন। অপর দিকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারে পুলিশকে তাগিদ দিয়েছেন ঢাকার সিএমএম আদালত। সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী আবেদ রাজা আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করলে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান রমনা থানা পুলিশকে এ তাগিদ দেন। গত ২ অক্টোবর আবেদ রাজা ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। ওইদিন বিচারক লতিফ সিদ্দিকীকে ২৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন; কিন্তু লতিফ সিদ্দিকী আদালতে হাজির না হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ
লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে সংগঠনটি। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে করে। সমাবেশে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, বাংলাদেশের পবিত্র মাটিতে নাস্তিক, মুরতাদদের কোনো স্থান নেই। তাই অবিলম্বে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করতে হবে। এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আটক ও ফাসির দাবিতে দুপুর দেড়টার দিকে (জোহরের নামাজের পর) বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে হেফাজতে ইসলাম। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগীর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক কাশেমী বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে আটক করা না হলে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মিছিলে ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক নূর হোসেন কাশেমী, যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুর রউফ ইউসুফ, নায়েবে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।