জ্বালানি তেলের দাম কমেছে বিশ্ববাজারে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৪, ০০:১০

বিশ্ববাজারে গত ৬ মাসে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ কমেছে। এতে দেশের তেল আমদানিতে কম বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে। এছাড়া জ্বালানি তেলে সরকার বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমায় সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ও কমবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দামের সাথে দেশের মূল্যস্ফীতির হার সরাসরি সম্পর্কিত। তেলের দাম কমলে বিভিন্ন পণ্যের উত্পাদন খরচ কমে। ফলে দাম কমে। মূল্যস্ফীতির হার সীমিত হয়। জনজীবনেও কিছুটা স্বস্তি দেখা দেয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে দেশের বাজারে তেলের দাম না কমলে সেই সুবিধা পাওয়া যায় না।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় দেশের আমদানি ব্যয় কমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে। সরকার তেলে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেয়। এখন ভর্তুকির কয়েক হাজার কোটি টাকা বেঁচে যাবে। এ অর্থ সরকার অন্য খাতে ব্যয় করার সুযোগ পাবে। ড. আহসান আরও বলেন, কিছুদিন আগেও সরকারের পরিকল্পনা ছিল তেলের দাম বাড়ানোর, বিশ্ববাজারে দাম কমায় এখন তা করতে হবে না। ফলে বেসরকারি খাত নেতিবাচক প্রভাবের হাত থেকে রক্ষা পাবে। মূল্যস্ফীতির হারও বৃদ্ধির হাত থেকে রেহাই পাবে। তাছাড়া এ খাতে ভর্তুকি কমায় সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত জুনের শেষদিকে প্রতি ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম ছিল ১১৩ মার্কিন ডলার। এরপর কমতে শুরু করেছে তেলের দাম। গতকাল সোমবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮২.৩৬ মার্কিন ডলার। অর্থাত্ ৬ মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ২৭ দশমিক ৪৩ ভাগ। বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে দেশীয় বাজারে তেলের দাম সমন্বয় করা হলেও বাংলাদেশে সাধারণত সেরকম হয় না। ফলে বাংলাদেশের বেসরকারি খাত জ্বালানি তেলের দাম কমার সুফল সরাসরি পায় না, সুফল পায় সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমায় সরকারের ভর্তুকি ব্যয় কমে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তেলের দাম বেশি থাকলে ভর্তুকির অতিরিক্ত অর্থ জোগান দিতে সরকার বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ করে। ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদেও ঋণ করে। ফলে সরকার বেশ চাপের মুখে থাকে। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমায় সেদিক থেকে চাপ কিছুটা কমেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে আমদানি করা জ্বালানি তেলের ৬৫ শতাংশই ডিজেল। আর ডিজেলে সরকারকে ভর্তুকিও দিতে হয় বেশি। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমায় ভর্তুকি কমে আসবে। তবে এখনও জ্বালানি তেলে ভর্তুকি রয়েছে তাই দাম কমানোর সুযোগ নেই। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার প্রভাব প্রসঙ্গে রিফুয়েলিং এন্ড কনভারসন ওনার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন নয়ন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্ববাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে সরকার যদি দাম কমায় তবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ওঠানামা করে। দাম বাড়লেই সরকার দেশে তেলের দাম বাড়ায় না। ফলে বিপিসিকে লোকসান দিতে হয়। এখন হয়তো সরকার সে লোকসান কিছুটা সমন্বয় করবে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার কারণ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী সামনে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার কমবে। চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার খুব ধীর। আর প্রবৃদ্ধির হার কমলে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমবে। তাতে এবারে দীর্ঘসময় ধরে তেলের দাম কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।