প্রধান গেট দিয়েই কারাগারে লতিফ সিদ্দিকী

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৪, ১৯:৪৩



পুলিশ ভ্যান থেকে নেমে সোজা গিয়ে দাঁড়ালেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে। সেখানে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলেন। মাঝে মাঝে মাথা উঁচু করে তাকালেন উপরের দিকে। হাতজোড় করলেন তবুও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে থাকলেন নীরব। পকেট গেট দিয়ে কারাগারে প্রবেশে জানালেন অস্বীকৃতি। শেষমেশ প্রধান গেট খুলেই কারাগারে প্রবেশ করানো হলো সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে।

এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বললেও লতিফ সিদ্দিকী উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, ‘আমি এখনো এমপি। গত ৩০ বছর আমি পকেট গেইট দিয়ে ইন বা আউট হইনি।’ 

এরপর এক পর্যায়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ফরমান আলী বাইরে আসেন এবং ৩টা ৪২ মিনিটে প্রধান ফটক খুলে লতিফ সিদ্দিকীকে সঙ্গে করে নিয়ে যান।

মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান তিনটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বেলা ২ টা ২৮ মিনিটে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের দোতলার ২৮ নম্বর কোর্টে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তিনি আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ান। বেলা আড়াইটার দিকে এজলাসে আসন গ্রহণ করেণ ২৫ নং আদালতের বিচারক আতিকুর রহমান।

শুরুতে ম্যাজিস্ট্রেট লতিফ সিদ্দিকীর কাছে জানতে চান তিনি কাউকে ওকালতনামা দিয়েছেন কিনা বা তার পক্ষে কোন আইনজীবী আছেন কিনা। এসময় লতিফ সিদ্দিকী জানান তিনি কাউকে ওকালতনামা দেননি।
বাদী আবেদ রাজা শুনানিতে বলেন, বিশ্বের দু’শ কোটি মুসলমানের পক্ষে তিনি এই মামলা করেছেন। এরপর বিচারক বাদীকে থামিয়ে বলেন, উনি যেহেতু জামিন চাননি, সেহেতু আপনাদের কোন কথা বলার প্রযোজন নেই। এরপর বিচারক আসামি জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়ে এজলাস ত্যাগ করেন।
এরপর উল্লাসে ফেটে পড়েন আদালতে থাকা বাদীপক্ষের আইনজীবীসহ অন্যরা। এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালত কক্ষ থেকে সিএমএম এর হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়।
এসময় উপস্থিত আইনজীবী ও অন্যরা শ্লোগান দিতে থাকেন। আদালত কক্ষেই তাকে নাস্তিক ও শেম শেম বলে তিরস্কার করেন।  শেষে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে বহনকারী পুলিশের গাড়ি জেলহাজতের উদ্দেশে আদালত চত্বর ত্যাগ করে।
সর্বশেষ তাকে বহনকারী গাড়ির জানালাতে জুতা দিয়ে আঘাত ও থুথু নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে ক্ষুব্ধ কয়েকজনকে।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করেন তিনি। মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার আবদুল বাতেন জানিয়েছেন, লতিফ সিদ্দিকী বেলা দেড়টার দিকে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

ঢাকার আদালতে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এগুলোর মধ্যে  সোমবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান বাদী এএনএম আবেদ রেজার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য তাগিদ দেন পুলিশকে। ওইদিনই বাদী আসামিকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার জন্য একটি আবেদন দাখিল করেছিলেন।
মামলাগুলোর অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউইয়র্কে বসবাসরত টাঙ্গাইলবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন লতিফ সিদ্দিকী।
ওই সময় তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করলো এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কীভাবে চলবে? তারাতো ছিল ডাকাত। তখন সে একটা ব্যবস্থা করলো যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী, জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী, তবে তার চেয়েও বেশি হজ ও তাবলিগ জামাতের।’হজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হজের জন্য ২০ লাখ লোক সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’ এ সময় তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘তাবলিগ জামায়াত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদেরতো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’
সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এর পরই দেশে-বিদেশে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েন তিনি। তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ ও দল থেকেও বহিস্কার করা হয়েছে।