এনবিআর চেয়ারম্যানের দুর্নীতি পুনঃঅনুসন্ধানে দুদক

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৪, ১৮:৩৭
 
 
 
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পুনরায় অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি অভিযোগগুলো পুনরায় অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের আগস্ট মাসে গোলাম হোসেনের বিভিন্ন দুর্নীতির ব্যাপারে দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন একটি প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করেন। প্রতিবেদনে গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগ নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ নথিভুক্তির সুপারিশ করা হলেও তা আমলে নেয়নি কমিশন। অনুসন্ধানে ঘাটতি থাকায় বেশ কিছু বিষয়ে আবার খোঁজ-খবর নিতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থায় চিঠি দিয়ে ওই সব তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। তথ্যগুলো হাতে পেলেই অনুসন্ধান সম্পন্ন হবে। এর পর তার (গোলাম হোসেন) বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।’
দুদক সূত্র জানিয়েছে, এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের শেষের দিকে অনুসন্ধানে নামে দুদক। অভিযোগের ব্যাপারে দুদক সূত্র জানায়, রিকন্ডিশন গাড়ির শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান আইনকে পাশ কাটিয়ে অবচয়-সুবিধা দেয়া, শুল্ক সুবিধায় পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে শুল্ক গোয়েন্দাদের সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত রাখা এবং একাধিক মুঠোফোন প্রতিষ্ঠানের সিম প্রতিস্থাপনের জন্য তিন হাজার ১০০ কোটি টাকার পাওনা রাজস্বের সুরাহা না হওয়ার ক্ষেত্রে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের ভূমিকার বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুদক। এ ছাড়া, তিনি বাণিজ্য সচিব থাকাকালে গ্রহণ করা কয়েকটি পদক্ষেপেরও অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ দিকে, এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন এবং তার স্ত্রী জাকিয়া মনসুর হোসেনের অর্থের সন্ধানে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে সংস্থার সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। ব্যাংকগুলোর কাছে এই চিঠি পাঠিয়ে ২০০৭ সালের ১ জুলাই থেকে হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন অর্থ অনুসন্ধানের এই উদ্যোগকে তার সংস্থার কার্যক্রমের স্বচ্ছতার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।