ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্ত্রী যশোদাবেন তাকে দেয়া সরকারি নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ভারতের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় যশোদাবেন গুজরাট রাজ্য সরকারের কাছে পেশ করা এক চিঠিতে তাকে দেয়া সরকারি নিরাপত্তার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন।
আমি ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী। আমি জানতে চাই ভারতীয় সংবিধান এবং আইনের কোন ধারায় আমাকে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
তথ্য অধিকার আইন দফতরে আবেদনে যশোদাবেন লিখেছেন, “আমি ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী। আমি জানতে চাই ভারতীয় সংবিধান এবং আইনের কোন ধারায় আমাকে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও লিখেছেন, “ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের গুলিতে নিহত হন। আমাকে যে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আমি আতংকিত। সুতরাং আমার জন্য যে নিরাপত্তা রক্ষী দেয়া হয়েছে, তাদের বিস্তারিত তথ্য আমাদের জানানো হোক।
যশোদাবেন জানিয়েছেন তিনি চলাফেরা করেন বাসে বা অন্য গণপরিবহনে। আর নিরাপত্তা রক্ষীরা সরকারি গাড়িতে চড়ে তাকে অনুসরণ করে।
অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা যশোদাবেনের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বিয়ে হয় ১৭ বছর বয়সে। কিন্তু বহু বছর ধরে তারা এক সঙ্গে থাকেন না।
নরেন্দ্র মোদি যে বিবাহিত ছিলেন তা অনেক দিন পর্যন্ত গোপন রেখেছিলেন। এ বছরের এপ্রিলে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তিনি যে মনোনয়নপত্র পেশ করেন, সেখানেই তিনি প্রথম প্রকাশ করেন যে যশোদাবেন তার স্ত্রী।
যশোদাবেন গুজরাটের মেহসানা জেলায় তার ভাইয়ের সঙ্গে থাকেন। এ বছরের শুরুতে ভারতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি মাসে ১৪ হাজার রূপী পেনশন পান, সেই অর্থেই তার জীবন চলে।
গত মে মাসে বিপুল ভোটে বিজেপির বিজয়ের পর নরেন্দ্র মোদি যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন, তখন থেকে তাঁর স্ত্রী যশোদাবেনকে ২৪ ঘন্টার নিরাপত্তা দেয়া হয়।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানিয়েছিলেন, বিয়ের তিন বছর পরই স্বামীর কাছ থেকে তিনি আলাদা হয়ে যান। বিয়ের পর তারা মাত্র তিন মাস এক সঙ্গে ছিলেন। খবর বিবিসি।
