ফার্গুসনে ব্যাপক বিক্ষোভ-দাঙ্গা

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৪, ০১:০৯

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণকে গুলি করে হত্যার দায় থেকে শ্বেতাঙ্গ পুলিশকে আদালত অব্যাহতি দেয়ার পর একে কেন্দ্র করে ফার্গুসনে শহরে রাতভর দাঙ্গা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপরও গুলি করেছে। শহরের উপকণ্ঠে বহু গাড়ি ও ভবনে আগুন দেয়া হয়েছে দোকানপাট লুট করা হয়েছে। নিহত তরুণটির পরিবার এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও পুলিশেকে রেহাই দেয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে তারা রায় মেনে নিয়ে শান্তি বজায় রাখার আহবান জানিয়েছেন। খবর বিবিসি’র।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। ফার্গুসনে প্রায় রাতভর বিক্ষুব্ধ মানুষের সাথে পুলিশের খন্ডযুদ্ধ হয়েছে। সহিংস বিক্ষোভ দমনে, দাঙ্গা পুলিশ কাদানে গ্যাস এবং মরিচের গুড়া ব্যবহার করে। সেন্ট লুইসের পুলিশ প্রধান ড্যারেন উইলসন বলছেন, গত আগস্ট মাসে ফার্গুসনের সেন্ট লুইস উপশহরে মাইকেল ব্রাউন নামের ওই কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ নিহত হন। তখনকার চেয়ে গত রাতের দাঙ্গা ছিল আরো ভয়ঙ্কর। দাঙ্গা এবং লুটপাটের কারণে পুলিশ ২৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। মাইকেল ব্রাউনকে হত্যার ঘটনা ছিল ৬ই অগাস্ট। ড্যারেন উইলসন নামে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশের গুলিতে সে মারা যায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশকে গুলি করতে হয়েছিল, এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ শহরের অধিকাংশ কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দা। তারা এটাকে বর্ণবাদী হত্যা হিসাবে দেখে এবং ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করে। দাবির মুখে, সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে ১২ জনকে নিয়ে, যাদের মধ্যে তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ, একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে সাক্ষ্য প্রমাণ দেখে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে জুরি তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় যে পুলিশ কর্মকর্তার কোনো অপরাধ তারা দেখতে পাননি। নিহত মাইকেল ব্রাউনের পরিবার এবং ফার্গুসনের কৃষ্ণাঙ্গ   জনগোষ্টী গভীর উত্কণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন জুরিদের রায় শোনার জন্য। সন্ধ্যার পরপরই যখন তা জানা গেল, তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের ব্যাপারে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বিশাল একটি অংশ সবসময়ই   সন্দিহান। থেকে থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ ওঠে। ফলে আদালত মাইকেল ব্রাউনের মৃত্যুর পেছনে পুলিশের কোনো অপরাধ না দেখলেও, বহু মানুষের মনে সন্দেহ তাতে  হয়তো ঘুচবে না।