প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তি কার্যকরে জোর প্রচেষ্টার আশ্বাস মোদির

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৪, ২০:৩১



ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর ও স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকরে জোর প্রচেষ্টা চালানোর আশ্বাস দিয়েছেন। বুধবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ১৮ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনের পর বিকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠককালে নরেন্দ্র মোদি এমন আশ্বাস দিয়ে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে একটি কনসেনসাস গড়ে উঠছে। শিগগিরই এর সুরাহা হবে বলেও আশাবাদী তিনি।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের আরও জানান, বৈঠকে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর ও স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকরে কী অগ্রগতি হয়েছে- তা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জবাবে নরেন্দ্র মোদি বলেন, খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। স্থল সীমান্তের ব্যাপারে রিপোর্ট এলে গৃহিত হবে। এ বিষয়ে ঐকমত্য হচ্ছে। তিস্তা চুক্তির বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

এর আগে মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণেই গত তিন বছর ধরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি আটকে আছে। ভারতের কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকতে সেদেশের পার্লামেন্টে স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকরে প্রস্তাব তোলা হলেও সে সময়ের বিরোধী দল বিজেপি এর বিরোধিতা করেছিল। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শহীদুল হক বলেন, ‘এই বিষয়ে ঐক্যমত গড়ে উঠছে এবং হবে বলে উনি (নরেন্দ্র মোদি) আশাবাদী।’ এছাড়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠককালে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে বাংলাদেশ ও ভারতের উভয় নেতা একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন সাংবাদিকদের জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বর্ধমানের জঙ্গি সমস্যা সমাধানেও দুই দেশের গোয়েন্দাদের তথ্য বিনিয়ম করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় বিকেল তিনটা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই প্রধানমন্ত্রীর এ বৈঠক শুরু হয়। তিনটা ৪০ মিনিটে বৈঠকটি শেষ হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও উপস্থিত ছিলেন। এটি ছিল দুই প্রতিবেশী দেশের সরকার প্রধানের দ্বিতীয় বৈঠক।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানেও তিস্তা চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকওে তার আন্তরিকতার কথা জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।