প্রশ্নপত্র ফাঁসের রাহু থেকে মুক্ত হতে পারছে না প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাও। টানা তিন বছর এ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশাসনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। শুধু এ পরীক্ষাই নয়, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষাও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কবলে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষা শুরুর সাথে সাথেই প্রশ্ন ফাঁসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ মিলছে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কখনোই বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেনি।
শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্দিষ্ট পরীক্ষার আগের দিন বা তারও আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। অধিকাংশ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে নিয়ে তারা প্রতিবেদনও জমা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি গঠন কিংবা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয় না। আবার জমা দেয়া প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে অনাগ্রহ রয়েছে। এছাড়া ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই একাধিক পরীক্ষা গ্রহণের নজিরও রয়েছে।
প্রশ্নফাঁস পরিস্থিতিকে ‘মহামারী’ ও ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকার এবং প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে দুর্বৃত্ত ও জালিয়াতচক্র নানাভাবে প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এতে ঘটনার মূল উত্স অশনাক্তই থেকে যায়। এ ব্যাপারে এখনই কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সাধারণত পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বাছাইয়ের পর লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত দুই বা ততোধিক সেট প্রশ্ন ছাপানোর জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। বিজি প্রেস থেকে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর বা বোর্ডের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র নির্দিষ্ট কেন্দ্রে যায়। এ প্রক্রিয়ার যেকোন পর্যায়েই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশ্নফাঁসের পর জালিয়াতকারীরা পরীক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবক কিংবা ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করে। এরপর সমঝোতায় পৌঁছলে ছাপা অক্ষরে কিংবা মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থীর কাছে প্রশ্ন ফাঁস করে। ফেসবুকের মত সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটেও প্রশ্নফাঁস করা হয়। এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বিভিন্ন নামের ওয়েবসাইটে ‘সাজেশন’ নামে প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের ওয়েবসাইটগুলো অল্প কয়েকদিন আগে চালু করা হয় বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ফেসবুক ও ইন্টারনেটে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, কোথাও প্রশ্ন হুবহু ছাপিয়ে দিচ্ছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কোন কোন জায়াগায় ষাট শতাংশ ও সত্তর শতাংশ প্রশ্নপত্র কমন পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এটা প্রশ্নপত্র না সাজেশন তা জানি না। তবে তিনি প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি অস্বীকারও করেননি।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আগে পরীক্ষায় নকল মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরীক্ষায় একটি বা দুটি প্রশ্নের উত্তর নকল করে দেয়া যায়। কিন্তু ফাঁস হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা গোটা প্রশ্নপত্রই জেনে যাচ্ছে। এখন প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এখনই এটি রোধ করা না গেলে শিক্ষা বা জ্ঞানচর্চার জায়গাটি আশঙ্কাজনকভাবে সঙ্কুচিত হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসাথে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক শক্তির পরিচয় দিতে হবে।
প্রাথমিক সমাপনীতে প্রশ্নফাঁস: গত রবিবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। অনুষ্ঠিত ইংরেজি, বাংলা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিভাবকদের দাবি, পরীক্ষার আগের রাতে ‘সাজেশন’ কিংবা ‘নমুনা প্রশ্ন’ নাম দিয়ে প্রশ্নপত্র ছড়ানো হচ্ছে। পরদিন মূল প্রশ্নপত্রের সাথে মিলিয়ে দেখা যায় ৭০ থেকে ৯৫ ভাগ প্রশ্নই মিলে গেছে। ফেসবুক, বিভিন্ন ওয়েব সাইট, মোবাইল এসএমএসে এমনকি ছাপা আকারে ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাতো বটেই তাদের অভিভাবকরা পর্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
ইংরেজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায় টাঙ্গাইল ও বগুড়ায়। সোমবার অনুষ্ঠিত বাংলা পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায় বগুড়া ও দিনাজপুরে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায় ঢাকার মোহাম্মদপুর, বাড্ডা এবং কুমিল্লা ও রংপুরে। আবার গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় ৭০ থেকে ৮০ ভাগ প্রশ্নই মিলে গেছে।
হাতেনাতে শিক্ষক আটক: পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করার অভিযোগে খুলনার পাইকগাছায় এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আটক শিক্ষক হলেন পাইকগাছা সরকারি মডেল স্কুলের অনুপ কুমার সরকার। গতকাল বুধবার সকালে বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের সময় নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে শিক্ষকের বাড়িতে পাওয়া প্রশ্নের সঙ্গে শুরু হওয়া বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষার আয়োজন করে ময়মনসিংহে অবস্থিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী (নেপ)। এর মহাপরিচালক নাজমুল হাসান খান বলেছেন, প্রশ্ন প্রণয়নে জড়িত শিক্ষক বা নেপ এর কর্মকর্তারা কোনভাবেই প্রশ্ন ফাঁসের সাথে যুক্ত হবার সুযোগ নেই। তবে এর আগে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে নেপকে দায়ী করেছিল তদন্ত কমিটির কোন কোন সদস্য। এ বিষয় নাজমুল হাসান খান বলেন, নেপকে দায়ী করেনি, সন্দেহ করেছিল। বিষয়টি আমলে নিয়ে এবার সতর্ক ছিল নেপ।
তদন্তের সুপারিশ হিমাগারে: চলতি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হলেও গতকাল পর্যন্ত কোন তদন্ত কমিটি গঠন করেনি মন্ত্রণালয়। তবে যে জেলাগুলোতে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে ঐ জেলাগুলোর শিক্ষা কর্মকর্তাদের অভিযোগ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আগের দুই বছরও প্রাথমিকের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে। গত বছরের পরীক্ষার প্রায় সব বিষয়ের প্রশ্নই ফাঁস হয়। তখন দেরিতে হলেও তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তদন্তে দেখা যায়, ইংরেজিতে ৮০ শতাংশ এবং বাংলায় ৫০ শতাংশ প্রশ্নের মিল ছিল। কিন্তু তারপরও পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি। তদন্ত কমিটি প্রশ্ন প্রণয়ন ও বাছাই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা, বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে বিজি প্রেসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোপনীয় ছাপাখানা আধুনিকায়ন করা, চিহ্নিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও সন্দেহের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে আইনানুগ শাস্তি প্রদানসহ সাত দফা সুপারিশ করে। কিন্তু সুপারিশগুলো আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
২০১২ সালেও এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। তখনো বিষয়টিকে ‘সাজেশন’ বলে চালিয়ে দেয় কমিটি।
এইচএসসিতেও প্রশ্ন ফাঁস: এ বছরের এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি, পদার্থ এবং রসায়ন বিজ্ঞান পরীক্ষার উভয় পত্রের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু শুধু ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করে পরে পরীক্ষা গ্রহণ করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেক শিক্ষক ও পরীক্ষার্থী। তখন কয়েকটি জেলায় জালিয়াতির অভিযোগে কয়েকজন আটক করা হলেও সকলের নামে মামলা হয়নি। আবার যাদের নামে মামলা হয়েছে তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এর আগের বছর এ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের শনাক্ত এবং ফাঁসের উত্স চিহ্নিত না করেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সরকারের গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা বা তাদেরকে নিয়ে কমিটি গঠনের সুপারিশ করে কমিটি। একইসাথে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এসএসসি ও এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র ছাপার সুপারিশ করা হয়।
এসএসসিতে প্রশ্ন ফাঁস: গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় গণিতের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ করেছিলেন অভিভাবকরা। বিভিন্ন দামে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়েছিল ফাঁসকৃত প্রশ্ন। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রশ্নের হুবহু কপিও প্রকাশ করা হয়। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তরপত্র তৈরির অভিযোগে ইসলাম হোসেন নামের এক সহকারী শিক্ষককে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপরও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, প্রশ্ন ফাঁসের কোন অভিযোগ তারা পাননি। যেটি পাওয়া গেছে তাকে ‘শর্ট সাজেশন’ বলা যেতে পারে।
জেএসসিতে প্রশ্ন ফাঁস: গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এরপর ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ মেলেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যেটি পাওয়া গেছে, সেটা ‘সাজেশন’।
নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস: বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এ থেকেও মুক্তি মিলেনি। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। ১৭টি জেলায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল করা হলেও প্রশ্ন ফাঁসের উত্স উদঘাটন করা হয়নি। ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কারো বিরুদ্ধে।
২০১০ সালে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। তখন ফাঁস হওয়া প্রশ্নে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ‘ভিন্নজগত্ বিনোদন কেন্দ্রে’ পরীক্ষা নেয়ার সময় পুলিশ ১৬৭ জনকে গ্রেফতার করে। ঐ ঘটনার জন্য বিজি প্রেসের কয়েকজন কর্মচারীকে চিহ্নিত করে তদন্ত কমিটি। ঐ কমিটির সুপারিশও লালফিতায় বন্দী।
প্রশ্ন ফাঁসের কলঙ্ক থেকে মুক্ত নয় সর্বোচ্চ বেসামরিক চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা বিসিএসও। প্রশ্ন ফাঁসের কারণে ৩৩তম বিসিএসের একটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরেও ঐ পরীক্ষার কয়েকটি বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠে। এর আগে ২৪তম বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল করে তা পুনরায় গ্রহণ করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বারও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়।
আইন আছে, প্রয়োগ নেই: আইন অনুযায়ী- প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণের সঙ্গে জড়িত থাকার শাস্তি ন্যূনতম তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড। পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এবং সংশোধনী ১৯৯২ আইনে শাস্তির এই বিধান রয়েছে। আইনটি প্রণয়নের পর বিসিএসসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অন্তত ৭০টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইন মোতাবেক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোন নজির নেই।