হাত মেলালেন মোদী-নওয়াজ

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৪, ২১:৫২
 
সার্ক সম্মেলনের সমাপনী দিনে অবশেষে হাত মেলালেন বৈরি প্রতিবেশী হিসেবে পরিচিত ভারত ও পাকিস্তানের দুই নেত। আর এতেই সম্মেলন বিফল হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায়।
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রায় তিন  দশক পার হলেও দক্ষিণ এশিয়ার এই আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে নি। আর সার্কের এই বিফলতার জন্য বৈরি দুই প্রতিবেশীকেই দায়ী করে আসছেন বিশ্লেষকরা।
গত বুধবার সার্কের অষ্টাদশ সম্মেলন শুরু হয়েছিল জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক রেল যোগাযোগ এবং পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল চুক্তির আশা নিয়ে।
কিন্তু পাকিস্তানের আপত্তিতে আটকে যায় এই তিন চুক্তি স্বাক্ষর, প্রথম দিনে এই অবস্থা তৈরি হলে সম্মেলন নিষ্ফল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয় যে তারা এই চুক্তি সইয়ের জন্য প্রস্তুত নয়।
বুধবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর মোদী ও নওয়াজ আলাদাভাবে অন্য রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও নিজেদের বৈঠক এড়িয়েই ছিলেন।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনা শুরুর আগে সকালে ধুলিখেল অবকাশ কেন্দ্রে সার্ক নেতাদের নিয়ে যায় সম্মেলন আয়োজক দেশ নেপাল। অসুস্থতার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলেও এতে যোগ দেন অন্য সাত দেশের নেতারা।
সেই অবকাশ কেন্দ্রে অন্তরঙ্গ পরিবেশে দেখা যায় সম্মেলনে যোগ দেওয়া সার্ক দেশগুলোর সরকার কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানদের। একসঙ্গে ঘোরা, আলাপের পাশাপাশি এক টেবিলে খাওয়া সারতেও দেখা যায় তাদেরকে।
ধুলিখেলেই প্রথম অন্তরঙ্গ আলাপে দেখা যায় নরেন্দ্র মোদী ও নওয়াজ শরিফকে এবং এটাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই দুজনের প্রথম সরাসরি আলাপ।
মোদী ও নওয়াজের আলাপের পর সম্মেলনের আলোচনার মোড় ঘোরে। এরপর সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তির ঘোষণা আসার পর আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তা সইও করেন।
এরপর সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে মঞ্চে অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে নওয়াজের দিকে এগিয়ে তার সঙ্গে করমর্দন করেন মোদী।
তাদের দুজনের এই হাত মেলানো যখন মিডিয়া সেন্টারসহ সম্মেলনস্থলের বিভিন্ন স্থানে টেলিভিশনে দেখা যাচ্ছিল, তখন অনেকে করতালি দিয়ে ওঠে। আর এই করতালি চলতে থাকে বেশ কিছুক্ষণ।
এর মধ্যেই দুই নেতাকে কথাও বলতে দেখা যায় এবং ছবি তুলতে সুযোগ দিয়ে তারা অন্তত ৩০ সেকেন্ড পরস্পরের হাত ধরে রাখেন।