পর্যটন সম্ভাবনার মনপুরা

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৪, ১০:২৬

ভোলায় মেঘনার বুকে পান্না-সবুজ টিপের মত ছোট্ট দ্বীপ মনপুরা। জালের মত ছড়িয়ে থাকা নদী-নালা, দিগন্তজোড়া ধানক্ষেত, দ্বীপের কিনারে আছড়ে পড়া মেঘনার ঢেউ, তার কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ম্যানগ্রোভ বন আর সেই বনে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ানো হরিণের পাল দেখলে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। দেশের সৌন্দর্য পিপাসুরা তো বটেই বিদেশি পর্যটকরাও এসে ভিড় করেন এখানে।
জেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনা মোহনার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় লক্ষাধিক লোকের বাস। মিয়া জমিরশাহ’র স্মৃতি বিজড়িত মনপুরা দ্বীপ অতি প্রাচীন। একসময় এ দ্বীপে পর্তুগীজদের আস্তানা ছিল। তারই স্মারক হিসাবে এখনো দেখতে পাওয়া যায় কেশরওয়ালা কুকুর। মনপুরার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে ছোট ছোট ম্যানগ্রোভ বন। ছোট বড় ৮-১০টি চর ও বন বিভাগের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে এসব ম্যানগ্রোভ বন। মাইলের পর মাইল জুড়ে গড়ে তোলা এই বনগুলো দ্বীপটিকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা।
শীত এলে বেশুমার পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে মনপুরার চরগুলো। এই চরগুলোর অন্যতম- চরতাজাম্মুল, পাতালিয়া, পিয়াল, চরনিজাম, সামসুউদ্দিন, লালচর, ডাল চর, কলাতলীর চর ইত্যাদি।
১৮৩৩ সালে মনপুরাকে ভোলা জেলার অধীনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালে মনপুরাকে উন্নীত করা হয় উপজেলায়। দ্বীপটির আয়তন ৩৭৩ দশমিক ১৯ বর্গ কিলোমিটার। ইউনিয়ন ৪টি, গ্রাম ৩০টি, জনসংখ্যা লক্ষাধিক। কৃষি জমি ৩০ হাজার ৫০৫ একর, বনায়ন ১১ হাজার ১১৯ বর্গমিটার।
ঐতিহাসিক বেভারিজ মনপুরার নামকরণ নিয়ে লিখেছেন, মনগাজি নামে এক ব্যক্তি সে সময়ে মনপুরার জমি লিজ নেন অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি। তখন তার নামানুসারে এ দ্বীপের নামকরণ হয় মনপুরা। অবশ্য অনেকের মতে, মনগাজি নামে একটি লোক এখানে বাঘের থাবায় প্রাণ হারায়। তখন তার থেকে দ্বীপর নাম মনপুরা।
উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব পাশে গড়ে উঠেছে পর্যটকদের আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান মনপুরা ফিশারিজ। প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ খামার বাড়িটি গড়ে উঠতে পারে পর্যটন স্পট হিসাবে।
 খামার বাড়িটির পূর্ব পাশেই রয়েছে বিশাল ম্যানগ্রোভ বাগান। দল বেঁধে হরিণ চরে বেড়ায় এখানে। শুধু সৌন্দর্য পিপাসুদের জন্য নয় ভোজন রসিকদের জন্যও রয়েছে অনেক আকর্ষণ। মোষের দুধের দই, টাটকা ইলিশ, বড় কই, জাগুর, কোরাল, বোয়াল ও গলদা চিংড়ির সুনাম রয়েছে।
অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাই মনপুরার প্রধান সমস্যা। মন চাইলে যে কেউ মনপুরা আসতে বা যেতে পরবে না। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে রুটিন মাফিক। ইচ্ছে হলেই কেউ তখন মনপুরায় আসতে অথবা মনপুরা থেকে যেতে পারে না। তাদের অপেক্ষা করতে হয় নির্দিষ্ট সময়ের নৌযানের জন্য।
যাতায়াত সুবিধা ও উন্নতমানের হোটেল-মোটেল সুবিধা বাড়ানো হলে দ্বীপটি অল্পদিনের মধ্যে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিমত।