জেলা শহরের হাসপাতালগুলোতে ‘ক্যান্সার ইউনিট’ খোলা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৪, ১৭:২১
 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দেশের জেলা শহরের হাসপাতালে ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য ‘ক্যান্সার ইউনিট’ খোলা হবে বলে। শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে হেড এন্ড নেক ক্যান্সার কনফারেন্স-২০১৪-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য দেশের বড় বড় জেলা শহরের হাসপাতালগুলোতে ‘ক্যান্সার ইউনিট’ খোলা হবে। অর্থ প্রাপ্তির সাপেক্ষে এ হাসপাতালগুলোতে লিনিয়ার এেলটার কোভাল্ট মেশিন স্থাপন করা হবে।’

নাসিম বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তামাক আমাদের দেশে এক সময় অনেক ব্যবহার হতো। এখন অনেক কমে গেছে। শুধু তামাক নয়, জলবায়ু, মাদক সেবনসহ অনেক বিষয় আছে যেগুলোর উপাদান ক্যান্সারের সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, মাদক তরুণ সমাজকে আক্রান্ত করেছে। তাই তামাক বিরোধী প্রচার ও প্রচারণা আরো বাড়াতে হবে। ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য সরকার সব ধরনের কাজ করতে প্রস্তুত আছে।
ক্যান্সার নিরাময়ে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশের সরকার জনগণের উন্নয়নে এককভাবে কাজ করতে পারে না উল্লেখ করে মন্ত্রী সরকারকে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার আহবান জানান। সবাই সরকারকে সহযোগিতা করুন। আমি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা চাই।
বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের উদ্দেশ্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আপনারা সুন্দর ভবন নির্মাণ করেছেন। কিন্তু রোগীদের কাছ থেকে চার্জ অনেক বেশি নেন। দরিদ্র রোগীদের কথা ভেবে একটু চার্জ কমান। যে দরিদ্র মানুষেরা চিকিত্সা নিতে আসে তারা আপনাদেরই স্বজন। কিন্তু মানবতার দিকে তাকিয়ে গরীবদের জন্য চার্জ কমিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। আমি আপনাদের অনুরোধ করবো আপনারা ঘোষণা দিন দরিদ্র মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষকদের কাছ থেকে চার্জ কম নেয়া হবে।
কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশ সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুরস্কার অর্জন করবে এমন আশা প্রকাশ করে নাসিম বলেন, প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২৭ কোটি রোগী এই কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে চিকিত্সা সেবা নিয়েছে। ৩০ ধরনের ওষুধ মানুষ ফ্রি পাচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে দরিদ্র মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কারো রাজনীতি করা উচিত নয়। এই খাতে সবার সহযোগিতা করা উচিত। আমরা যারা রাজনীতি করি জনগণের সেবা করার জন্য। তাই স্বাস্থ্য খাত হচ্ছে জনগণকে সেবা করার সবচেয়ে বড় খাত। তাই আমি আশা করবো এ বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দল সরকারকে সহযোগিতা করবে।
বাংলাদেশ, ভারত, জার্মানি, থাইল্যা্ল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, নেপাল, শ্রীলংকা, কানাডা- এই ১০টি দেশের প্রতিনিধি নিয়ে এই কনফারেন্সের আয়োজন করে হেড এ্ল নেক এনকলোজি গ্রুপ।
কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ডা. কামরুজ্জামান চৌধুরীর, সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবিরসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।