সার্ক শীর্ষ নেতারা এ অঞ্চলে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে আন্তঃদেশীয় রেল ও মোটরযান চলাচল চুক্তি তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে রেল ও মোটরযান চলাচল চুক্তি দু’টি হওয়ার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সাংবাদিক সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সার্ক সম্মেলন সফল হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি যে, চুক্তিগুলো হলে সার্ক অনেক এগিয়ে নিয়ে যাবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাফটার অধীনে বাণিজ্য সমপ্রসারণে বিভিন্ন অশুল্ক বাধা দূরীকরণে বাংলাদেশের প্রস্তাব সম্মেলনে গৃহীত হয়। এ প্রস্তাবে রয়েছে পণ্যের মান সুষমকরণ, কাস্টমস সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন সহজীকরণ,পণ্য পরিবহন প্রক্রিয়া সহজভাবে সম্পন্নকরণ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম আমরা করতে দেবো না। এটি বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে। তেমনি আমরাও চাই ভারতেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেন কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংগঠিত না হয়। তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষর এবং স্থল সীমানা চুক্তি অনুসমর্থন বিষয়ের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয় দু’টি তাদের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠককালে দুই প্রধানমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সার্ক দেশগুলোর স্ব স্ব প্রাকৃতিক সম্পদের যৌথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ অঞ্চলের সমষ্টিগত সমৃদ্ধির ব্যাপারে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নেপালের জলবিদ্যুত্ আমদানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে তিনি জানান। নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, কোনো দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে তার আগ্রহের কথা পুনঃব্যক্ত করেছেন। তিনি আশা করছেন স্থল সীমান্ত ও তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি অচিরেই হয়ে যাবে। চুক্তিটি হলেই তিনি বাংলাদেশে আসতে পারবেন। তবে ভারতের রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে ডিসেম্বরের ১৮ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভারত সফর করবেন। মমতা ব্যানার্জী বাংলাদেশ সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মমতা বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী।
রওশন এরশাদের কাছে নির্বাচন নিয়ে নিশা দেশাইয়ের প্রশ্ন কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় আলোচনা যখন হয় তখন তো প্রশ্ন করতেই পারেন। এটাতে আমি কোনো অসুবিধা দেখি না।’
