মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যশোর-৬ আসনের জামায়াত দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও বর্তমানে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রিয় নেতা সাখাওয়াত হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রবিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়।
আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল তার বিষয়ে তদন্ত সংক্রান্ত প্রতিবেদন আগামী ৩০ ডিসেম্বর দাখিলে প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দিয়েছে। মামলার প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলো না এবং জামিনের আবেদনও জানানো হয়নি। তিনি নিজেই ট্রাইব্যুনালের কাছে সাবেক এমপি হিসেবে কারাগারে ডিভিশন পাওয়ার আবেদন জানান।
এ সময় তিনি ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি মুখে ক্যান্সারের রোগী। কথা বলতে ও খাবার খেতে তার অসুবিধা হয়। তার সঙ্গে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনও নেই। এরপর ট্রাইব্যুনাল কারাবিধি অনুসারে সাখাওয়াতকে সুযোগ-সুবিধা দেয়া ও চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আদেশ দেয়।
শনিবার রাজধানীর উত্তরখানের মাস্টারপাড়া শাহী মসজিদের কাছে ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।
২০১২ সালের ১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত শুরু হয় বলে জানায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তার বিরুদ্ধে মামলায় তদন্ত করছেন তদন্ত সংস্থার সদস্য আব্দুর রাজ্জাক।
১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর হয়ে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন। এরপর প্রথমে বিএনপিতে এবং পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন তিনি।
