বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত চুক্তি করবো, আসামে মোদী

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১০:৫০

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকাল রবিবার আসাম সফরে গিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করতেই তিনি ঢাকার সাথে সীমান্তে ভূমি বিনিময় চুক্তি কার্যকর করবেন। এটা করলে আসামে অনুপ্রবেশ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। খবর বিবিসি’র।

প্রধানমন্ত্রী মোদী তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মী সভায় ভাষণে বলেন, এই ভূমি বিনিময় চুক্তি নিয়ে আসামের মানুষের মনোভাব আমি জানি। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি আসামের নিরাপত্তার সাথে কোনো আপস করা হবে না। চুক্তি হলে তা তাত্ক্ষনিকভাবে কিছু লোকসান হলেও স্থায়ীভাবে আসাম লাভবানই হবে। বাংলাদেশের সাথে স্থলসীমা চুক্তি কার্যকর হলে আসামের অপদখলীয় কিছু ভূমি বাংলাদেশকে দিয়ে দিতে হবে। এ নিয়ে স্থানীয় বিজেপিসহ আসামের জাতীয়তাবাদী দলগুলোর মধ্যে তীব্র আপত্তি রয়েছে। মোদী বলেন, তার সরকার বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের সমস্ত রাস্তা চিরতরে বন্ধ করে দেবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমা চুক্তি অনুমোদন করার পর এখন ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষেই এ ব্যাপারে সংবিধানের সংশোধনী আনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই সংবিধান সংশোধনীটি পাশ করানো গেলেই ছিটমহল ও অপদখলীয় ভূমির বিনিময় করতে পারবে ভারত এবং বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে মোট ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় সম্ভব হবে। এর জন্য ভারতকে ১৭ হাজার একরের কিছু বেশি জমি বাংলাদেশকে দিতে হবে। আর ভারত পাবে সাত হাজারের একটু বেশি জমি। অপদখলীয় ভূমি-গুলোও বিনিময় করা হবে যার ফলে ভারত প্রায় দুই হাজার আটশ একর জমি পাবে। বাংলাদেশকে দিতে হবে দুই হাজার ২৬০ একরের মতো জমি। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী এই ভূমি বিনিময়ের কথা ছিল। বাংলাদেশের সংসদে ওই চুক্তি অনুমোদন করা হয় বহু আগে। কিন্তু ভারত বিগত চার দশকেও সেটি করতে পারেনি।