‘শান্তিচুক্তি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার, এটি বাস্তবায়ন হবে’

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৮:২৭
 
 
 
জাতীয় সংসদের উপনেতা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেছেন, ‘পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে।’ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে নীতি-নির্ধারণী সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ (আরডিসি), মানুষের জন্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস এ সংলাপের আয়োজন করে। 
সাজেদা চৌধুরী বলেন, ‘পাবর্ত্য এলাকায় বসবাসকারীরা এ দেশের নাগরিক। চুক্তির মাধ্যমে শান্তি এসেছে। উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।’
‘ভূমি কমিশন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি’ উল্লেখ করে সাজেদা চৌধুরী বলেন, ‘সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করবে। ইতিমধ্যে আদিবাসীদের ভূমির অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’
সাজেদা চৌধুরী বলেন, ‘পাহাড়ে শান্তি ফিরে এসেছে। আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও কাজ করছে।’
আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা এমপির সঞ্চালনায় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপির সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির চেয়ারপার্সন গৌতম দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা প্রমুখ।
সংলাপের উদ্বোধনী পর্বে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের টেকনিক্যাল সমন্বয়ক প্রফেসর মেসবাহ কামাল।
মূল প্রবন্ধে মেসবাহ কামাল বলেন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য শান্তির বিকল্প নেই। চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা আগামী বছরের ৩১ এপ্রিলের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ১ মে থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। একে চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে তাদের হতাশার দিকটি বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, চুক্তির ১৭ বছর পার হলেও আদিবাসীদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত হয়নি। ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ২০০১ সালের প্রণীত আইনে সংশোধন আনতে হবে। উপজাতীয় শরণার্থীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চাকরিতে তাদের কোটা সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে বেশ কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে আদিবাসীদের ওপর শোষণ ও নিপীড়ন বন্ধে আরো পদক্ষেপ নিতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ‘চুক্তি বাস্তবায়ন সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ এবং শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক দুটি আলোচনা অনুষ্ঠান হয়।