আরও ৩০ গণকর্মচারীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ জাল বলে সেগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। গতকাল মঙ্গলবার জামুকার সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ নিয়ে চার সচিবসহ ২১৭ জন গণকর্মচারীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ জাল বলে প্রমাণিত হল। তবে জাল প্রমাণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মধ্যে। চাকরিতে প্রবেশের সময় তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নিজেদের পরিচয় গোপন করায় তাদের সনদ জাল বলে তা বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে প্রথম দফায় ১৮২ জন, দ্বিতীয় দফায় পাঁচজনের সনদ বাতিল করে দেয়া হয়। গতকালের সভায় যাদের সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইব্রাহীম হোসেন। এ ছাড়া সরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষক, বিভিন্ন দফতর, অধিদফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। সনদ বাতিল করা গণকর্মচারীদের বিষয়ে তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এখন বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
যাচাই-বাছাই স্থগিত: গতকালের বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধার নতুন সংজ্ঞা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন না করা পর্যন্ত নতুন আবেদন করা ১ লাখ ৩০ হাজার আবেদন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামুকা।
একজন মুক্তিযোদ্ধা খেদের সঙ্গে বলেন, আর কী উপায়ে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর অধীনে দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নেয়া এই গণকর্মচারী মুক্তিযোদ্ধা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সনদ, স্থানীয় কমান্ডারের প্রত্যয়ন সর্বোপরি মন্ত্রণালয়ের প্রত্যয়ন সবকিছুকেই ভুয়া বলে আজ কি মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে না? তিনি বলেন, এক বছর বেশি চাকরি করার সুযোগ দেয়া হল মুক্তিযোদ্ধাদের। নিশ্চয় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এর সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একক সিদ্ধান্তে কোন সনদ ইস্যু বা বাতিল করতে পারে না। জামুকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের যাচাই বাছাই শেষে সনদ দেয়া না দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সে সময়ে যারা সনদ দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে এখনো চারজন মন্ত্রী। তারা সে সময় কীভাবে মুক্তিযোদ্ধার সনদ প্রত্যয়ন করেছিলেন সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।
মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর অবসরের বয়স বাড়ানোর পর ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্কালীন সচিব মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামান একটি পরিপত্র জারি করেন। এতে চারটি শর্ত মেনে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর বয়স বৃদ্ধি কার্যকর করার কথা বলা হয়। এসব শর্ত হচ্ছে যারা চাকরিতে প্রবেশের সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন অথবা যাদের নাম মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত হয়েছিল অথবা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে যাদের নাম গেজেটে প্রকাশ হয়েছিল অথবা যাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সই করা সনদ রয়েছে। এ চারটির যে কোন একটি শর্তে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার সুযোগ পান অনেকেই আর এক বছর অতিরিক্ত চাকরি করার সুবিধা ভোগ করতে থাকেন।