‘পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই’

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৯:১৪
 
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও কমনওয়েল্থ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশনের (সিপিএ) চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার বা বিতর্কের কিছু নেই। সংবিধান, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিধি-বিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)সহ আইনি কাঠামোর মধ্যেই এই নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনে কোন দল অংশ না নিলেও কিছু করার থাকে না। কাজেই দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক হচ্ছে-এটা মোটেই কাম্য নয়। নির্বাচন নিয়ে যে কলঙ্কের কথা বলা হয়, তাও ঠিক নয়।
জাতীয় সংসদ ভবনের পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে বুধবার বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সিপিএ’র চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ায় স্পিকারকে এবং ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সাবের হোসেন চৌধুরীকে বিপিজেএ’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানাতে ‘আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক বিশ্বে অবিস্মরণীয় এই বিজয়ের তাত্পর্য’ শীর্ষক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে স্পিকার শিরীন শারমিন পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হলে দেশের গণতন্ত্র কোথায় যেত? তিনি বলেন, আমাদের আরপিও-তে বিনা প্রতদ্বিন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই।
সিপিএ চেয়ারপারসন ও আইপিইউ প্রেসিডেন্ট দু’জনই অভিন্ন কণ্ঠে বললেন, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দশম সংসদ গঠিত হয়েছিল বলেই এরকম দুটি আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামে বাংলাদেশের দু’জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ওই নির্বাচন না হলে এই দুটি বিশ্ব সংস্থার প্রধান হওয়া দূরে থাক, সাধারণ সদস্যপদও হারাতে হতো। যা এর আগে ঘটেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন দু’জনই। আরেক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার জানান, এই দুটি আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে কোনো দল কিংবা গোষ্ঠীর বাধার সৃষ্টি হয়নি।
শিরীন শারমিন বলেন, সিপিএ চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ার বিজয় ১৬ কোটি মানুষের। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের বিজয়।
আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের চৌধুরী বলেন, তাদের নির্বাচিত হওয়া সরকারের বিজয় নয়, এটা পার্লামেন্টের বিজয়। তিনি বলেন, বর্তমানে এই দুটি আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরাম মিলে ১৯২টি দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। জনসংখ্যার দিক দিয়ে যা ৬৫০ কোটি মানুষের নেতৃত্বে আমরা। একইসঙ্গে ৪৫ হাজার এমপির’ও নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।
সাবের হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের জন্য বর্তমানে যে আচরণবিধি রয়েছে তা পরিবর্তন করা দরকার। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সংসদ সদস্যরা কীভাবে নির্বাচিত হন এবং তাদের আচরণ কী হয়-সেগুলো পর্যালোচনা করেই পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সংসদের সক্ষমতা বাড়ানো।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিপিজেএ সভাপতি উত্তম চক্রবর্তী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, বিপিজেএ’র সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান, প্রাক্তণ সাধারণ সম্পাদক আশিষ সৈকত ও রেজানুল হক রাজা, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কামরান রেজা চৌধুরী প্রমুখ।