জাতীয় গ্রিড এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয়

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ২৩:৩২

Åআন্ডার ফ্রিকোয়েন্সি’র কারণেই সারাদেশে বিদ্যুত্ বিপর্যয়

Åঘটনার দিন ভেড়ামারা সাবস্টেশন আটবার বন্ধ হয়
Åসঞ্চালন ব্যবস্থা আধুনিকায়নসহ ৩২ দফা সুপারিশ
বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের কারণে কাউকে দোষারোপ করে সময়ক্ষেপণ করতে চাই না। কারণ বিদ্যুতের আধুনিকায়নে যে পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার সেই সক্ষমতা এখনো আমাদের নেই। আমাদের জাতীয় গ্রিড এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয়। তবে এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিদ্যুত্ উত্পাদনের সাথে সাথে সঞ্চালন ব্যবস্থাতেও মনোযোগ দেয়া হবে।
গতকাল বুধবার বিদ্যুত্ ভবনে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এসব কথা বলেন। গত ১ নভেম্বর সারাদেশে আকস্মিক বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বিদ্যুত্ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। বিদ্যুত্ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে উপদেষ্টা নিয়োগ করা হবে। শিগগিরই তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে।
তদন্ত প্রতিবেদনসূত্রে জানা গেছে, ‘আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সি’ বা বিদ্যুত্ প্রবাহে সমস্যার কারণে উত্পাদন ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরণের পার্থক্য তৈরি হওয়ায় সারাদেশে ওই ভয়াবহ বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। মাত্র ১৪ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে এ বিদ্যুত্ বিপর্যয় হয়। এতে সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে প্রথমে ভেড়ামারা আন্তঃদেশীয় সাবস্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বিদ্যুত্ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রায় ৯ ঘন্টা বিদ্যুত্ বিহীন থাকে সারাদেশ।
প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২২ দফা স্বল্পমেয়াদি এবং ১০ দফা মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত কমিটি বিভিন্ন বিষয়ে নতুন করে কমিটি গঠনেরও সুপারিশ করেছে।  
অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনের একটি ডিজিটাল রেখাচিত্র সাংবাদিকদের সামনে প্রদর্শন করে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিক হিসাবে বিদ্যুত্ সঞ্চালনের গতি ৪০ থেকে ৪৬ মানের মধ্যে ওঠানামা করলে ভালো। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুত্ সঞ্চালনের গতি ৪৯ থেকে ৫৬। এটা ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের ত্রুটি বাংলাদেশে নাকি ভারত থেকে হয়েছিল? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোড বেশি হওয়ায় ‘আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সি’র জন্য এ ঘটনা ঘটেছিল। চাহিদার সঙ্গে ভারসাম্য না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
তদন্ত কমিটিসূত্র জানায়, সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে ভেড়ামারা সাবস্টেশনটি সেদিন প্রথম বন্ধ হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ঘটনার দিন সাবস্টেশনটি আটবার বন্ধ হয়। ওয়ারেন্টি সময় শেষ হওয়ার আগেই ভেড়ামারা সাবস্টেশনের সফটওয়্যারে এ সমস্যা দেখা দেয়। ইতিমধ্যে সাবস্টেশন স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান সিমেন্স এর প্রতিনিধিকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার জন্য দেশে আসতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে দেশের বিদ্যুত্ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কারিগরি সব ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি মানব সম্পদ উন্নয়নের সুপারিশ করেছে। এছাড়া প্রতিবেদনে ‘আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সি’ অবস্থার উন্নয়ন, জেনারেশন ইউনিট এবং ফিডারের ফ্রিকোয়েন্সি রিলের মধ্যে সমন্বয়, আগের গ্রিড বিপর্যয়ের পর করা সুপারিশ বাস্তবায়ন, প্রতিটি বিদ্যুত্ কেন্দ্রে এক মিলি সেকেন্ডে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রেখে সফটওয়্যারের ব্যবস্থা, এনএলডিসির সফটওয়্যার প্রতি পাঁচ বছর পর পর আধুনিকায়ন, এনএলডিসিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, জিপিএস এর ব্যবস্থা করা, প্রত্যেকটি বিদ্যুত্ কেন্দ্রে খুচরা যন্ত্রাংশ প্রস্তুত রাখা, এলাকা ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র ভাগ করার ব্যবস্থা ও বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোতে নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।  

সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যুত্ সচিব মনোয়ার ইসলাম, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ হোসাইন, পিজিসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল বেরুনীসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।