শ্রদ্ধা-ভালবাসায় বিদায় নিলেন হিউজ

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ২৩:৩৭

সমগ্র অস্ট্রেলিয়া তো বটেই, ক্রিকেট বিশ্বই যেন থমকে গেল দেড় ঘন্টার জন্য। নিউ সাউথ ওয়েলসের ম্যাকসভিলে ফিলিপ হিউজের শেষকৃত্য সাবেক বর্তমান ক্রিকেটার, সংগঠক থেকে রাজনীতিবিদ সবাইকে দাঁড় করালো এক কাতারে। শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় প্রায় আশি মিনিট ধরে চললো হিউজ স্মরণ। সশরীরে উপস্থিত পাঁচ হাজার মানুষের বাইরে টেলিভিশন স্ক্রিনের সামনে উপস্থিত হাজারো মানুষ সমবেত হয়েছিলেন অকালেই না ফেরার দেশে চলে যাওয়া হিউজকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। সীমাহীন আবেগ আর অপরিসীম ভালবাসায় গতকাল হিউজের জন্মশহরে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হল ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের।

চলে যাওয়া মানেই প্রস্থান নয়। বহুল চর্চিত এই বাক্যটিই হয়তো হিউজের মৃত্যুর বিষয়টিকে সবচেয়ে ভাল ব্যাখ্যা করতে পারবে। উপস্থিত প্রায় সবাই বললেন, শারীরিকভাবে না থাকলেও হিউজের চেতনা চির অম্লান হয়ে থাকবে আজীবন।
অস্ট্রেলিয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক বললেন, ‘ফিলিপের চেতনা এখন চিরদিনের জন্য আমাদের খেলার অংশ হয়ে গেছে। আমাদের সবার ভালবাসার এই খেলার নীরব রক্ষক হয়ে গেছে এটা। এই চেতনা আমাদের ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি শেখারও আছে এ থেকে। অবশ্যই আমাদের মাটি কামড়ে থাকতে হবে এবং চা বিরতি পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যেতে হবে। সেখানেও থামলে চলবে না। (অনন্তকাল) সেটা চালিয়ে যাব আমরা। শান্তিতে ঘুমাও আদরের ছোট ভাই আমার। উইকেটের মাঝখানে আবার তোমাকে খুঁজে নেব আমি।’
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্রায়ান লারা-শেন ওয়ার্নদের মতো কিংবদন্তী, স্বজন-বন্ধু কে ছিলেন না হিউজের জন্মশহর ম্যাকসভিলে গতকাল অনুষ্ঠিত এই শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের সশরীর উপস্থিতিতে আশি মিনিট ধরে চললো শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান।
ব্রিসবেন থেকে অ্যাডিলেড, লর্ডস থেকে করাচি; টিভি চ্যানেলের পর্দায় কোটি মানুষ যুক্ত হয়েছিল হিউজের শেষকৃত্যে।
মিডিয়াম পেসার শন অ্যাবটের বাউন্সারে গত মঙ্গলবার শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ চলাকালীন গুরুতর চোট পান হিউজ। এর দুদিন বাদে সিডনির সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কারণ হিসাবে জানানো হয় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের বিষয়টি।

তবে এত মানুষের ভালবাসা যার সঙ্গী, তিনি কোনকালেই বিস্মৃত হবেন না; নিশ্চিতভাবেই বলা যায় সেটা।