মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, বিয়ের বয়স ১৬ না ১৮ হবে, এ নিয়ে গণমাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনার প্রেক্ষিতে এখন মনে হচ্ছে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছরই জয়যুক্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাল্যবিবাহ, অল্পবয়সে বিয়ে ও জোরপূর্বক বিয়ে প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক গণমাধ্যম কর্মীদের মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। কানাডিয়ান হাই কমিশনের সহযোগিতায় ‘ওমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ’ এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
মেহের আফরোজ বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক সমস্যা। দেরিতে হলেও আশা করছি, এ ব্যাপারে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন হবে। সব মিলে ২০২১ সালের আগেই আমরা বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে পারবো বলে তিনি মন্তব্য করেন। মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা এবার আইনে নোটারি পাবলিকের সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হবে না বলে উল্লেখ করেছি। বাল্যবিয়ের জরিমানাও বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
সভায় কানাডিয়ান হাই কমিশনের চার্জ দ্য এফেয়ার্স ক্রিশ্চিয়ার টারডিফ ‘শিক্ষা অর্জন কর, এখনই বিয়ে নয়’ এই শ্লোগান পরিবার, সমাজ ও দেশে ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, অল্পবয়সে ও জোরপূর্বক বিয়ে কিশোরীদের জীবন ও ভবিষ্যেক শুধু ঝুঁকির মধ্যে ঠেলেই দেয় না, এতে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এই সমস্যা দূর করতে নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
ইউএনওমেন’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্রিস্টিন হান্টার গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা বাল্যবিবাহ রোধে কিশোরী, তাদের মা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলুন। তাদের স্বপ্নের কথা জানুন। এরপর তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করুন।
আয়োজক সংগঠনের সমন্বয়ক আঙ্গুর নাহার মন্টির পরিচালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণমাধ্যমকর্মী মানসুরা হুসাইন। আরো বক্তব্য রাখেন ইউএনএফপিএ’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা ম্যাটাভেল পিকিন, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ লুইস মোভনো, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।