পুলিশের ৩২৫ কর্মকর্তার পদোন্নতি তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:২৮

পুলিশের ৩২৫ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত ফাইলটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলে সমপ্রতি তা ফেরত পাঠানো হয়। জানা গেছে, বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৮, ২০, ২১, ২২ ও ২৪তম ব্যাচের ৩২৫ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য একটি তালিকা চূড়ান্ত করে পুলিশ সদর দফতর। তালিকায় ২৪তম ব্যাচের এক কর্মকর্তার নাম ১৪১ নম্বরে আসলেও ১৭ ব্যাচের এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নাম নেই তালিকায়। সদর দফতরে কর্মরত অবস্থায় তিনি অনেকের অন্যায্য আবদার পূরণ করেননি, তাই তার নাম বাদ গেছে বলে ফিসফাস হচ্ছে। অন্যদিকে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ও যারা সুবিধাভোগী ছিলেন, এমন কয়েকজনের নাম ওঠেছে তালিকায়। এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনে নানা ধরনের কথা উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ সদর দফতরের তিনটি গ্রুপ এই তালিকা প্রস্তুতে ছিল সক্রিয়। প্রতিটি গ্রুপই তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের পদোন্নতির জন্য নানা তত্পরতা চালান। এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে তুলে ধরেন নানা অভিযোগ। এক পক্ষ দাবি করেছে, তালিকা প্রস্তুতে একটি গ্রুপ মোটা অংকের টাকা নিয়েছে। সত্, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। আরেক পক্ষ অভিযোগ করেছে, প্রতিপক্ষ গ্রুপকে কোণঠাসা করতে ও দলবাজ ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। তৃতীয় পক্ষ অভিযোগ করে, কোন কোন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা পেছনে থেকে অর্থ বাণিজ্য করছেন। এসব অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি শেষমেষ প্রধানমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে। প্রাথমিকভাবে খোঁজ খবর নিয়ে অভিযোগের সত্যতা মেলায় শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে ফাইলটি ফেরত পাঠানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এই সিদ্ধান্তে পুলিশ প্রশাসনের সত্ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা খুশিই হয়েছেন। তারা বলেন, সুযোগ সন্ধানী কিছু কর্মকর্তা যখন যে সরকার আসে তাদের সমর্থক সেজে নানা সুবিধা নেয়। তাদের রাজনৈতিক আদর্শ যাই থাকুক ক্ষমতাসীন দলের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে গড়ে তুলেন সম্পর্ক। এদের কেউ কেউ ৫ বছরের মধ্যে কয়েকশ’ কোটি টাকা কামানোর টার্গেট নেয়। কেউ কেউ ইতিমধ্যে বিদেশে সম্পদ করেছেন। এরাই সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে আবার এরাই পদোন্নতির সময় সরকারের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) প্রশাসনেও এ ধরনের কর্মকর্তাদের সংখ্যা কম নয়। থানার এক শ্রেণির কর্মকর্তা দলীয় লোক সেজে প্রকাশ্যে ঘুষ ও গ্রেফতার বাণিজ্য করছে। কিছু রাজনৈতিক নেতার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে তারা রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দিনের পর দিন ধরে থাকছে। ওই নেতাদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে থাকেন পুলিশের ওই কর্মকর্তারা। এ ছাড়া থানা থেকে টাকার ভাগ পর্যায়ক্রমে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পকেটেও যায়। রাজধানী ও আশপাশে কোন কোন থানায় ওসি হিসেবে বদলি হয়ে আসতে কমপক্ষে ২০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা উেকাচ দিতে হয়। শুধু রাজধানী ঢাকায়ই নয়, ঢাকার বাইরের থানার চিত্রও প্রায় এক। এ বাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জড়িত থাকে। তাদের কথার বাইরে গিয়ে থানা পুলিশ মামলা, জিডি গ্রহণ কিংবা আসামি গ্রেফতার করতে পারে না। দুই পুলিশ সুপার এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।

পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, নিয়মনীতি অনুসরণ করে পুলিশের পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। এরসঙ্গে মেধা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতাকে গুরুত্ব দেয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায়ই তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আছে কিংবা বিতর্কিত কোন কর্মকর্তা কোন অবস্থায়ই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পান না, পাবেনও না।