ল্যাটিন আমেরিকার দেশ চিলিতে আগামী জানুয়ারি থেকে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা পর্যায়ের আলোচনার পর চলতি বছরের মাঝামাঝি দেশটি বাংলাদেশকে এ সুবিধা দিতে সম্মত হয়। এটি আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হচ্ছে।
এর ফলে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার প্রসারিত হবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বেশিরভাগই গার্মেন্টস পণ্য। গার্মেন্টস রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর চিলিতে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে যা আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে দেশটিতে আমাদের রপ্তানি বাড়বে বলে আশাকরি। সেইসঙ্গে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, মেক্সিকোসহ অন্যান্য দেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া উচিত।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গেল ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চিলিতে বাংলাদেশ ২৮০ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করেছে। দেশটিতে পণ্য রপ্তানিতে একসময় ১০ শতাংশের উপরে শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। বর্তমানের রপ্তানির ক্ষেত্রে ৬ শতাংশ হারে শুল্ক কার্যকর। গার্মেন্টস পণ্য ছাড়াও চামড়া ও চামড়াজাতীয় পণ্য এবং পাট ও পাটজাতীয় পণ্য, ওষুধ, স্বল্প আকারে হলেও হ্যান্ডব্যাগ, মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট রপ্তানি হয়। ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু গতকাল ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, শুল্ক বাধার পাশাপাশি বেশকিছু অশুল্ক বাধার কারণে চিলিতে এতদিন বাংলাদেশের রপ্তানি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়েনি। তবে চিলি বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য দেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বর্তমানে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার উপরই নির্ভরশীল। দেশের মোট রপ্তানির ৮১ শতাংশের গন্তব্য এই দুই অঞ্চলে। এ দুটি বাজারে সংকট তৈরি হলে তা সার্বিক রপ্তানিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশংকা। এই বিবেচনা থেকে রপ্তানিকারকরা নতুন বাজারের সন্ধানে নামে। এরই অংশ হিসেবে ২০১০ সালে বিজিএমইএ’র একটি প্রতিনিধি দল ব্রাজিল, মেক্সিকো ও চিলি সফর করে। এর পর ২০১২ সালেও তত্কালীন বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চিলি সফর করেন। এর পর উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তা পর্যায়ের একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালের ওই সফরে বিজিএমইএ’র প্রতিনিধি ছিলেন বর্তমানে সংগঠনটির সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম। গতকাল ইত্তেফাককে তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে নতুন বাজারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। চিলিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ায় রপ্তানি বাড়বে। তবে গোটা ল্যাটিন আমেরিকাতে এ সুবিধা পাওয়া গেলে ভালো হতো।
বর্তমানে ব্রাজিল ও মেক্সিকোতে বাংলাদেশে দূতাবাস থাকলেও চিলিতে দূতাবাস নেই। রপ্তানিকারকরা আশা করছেন, ব্রাজিল ও মেক্সিকো দূতাবাসকে কার্যকর করার পাশাপাশি চিলিতেও দূতাবাস খোলার ব্যবস্থা করবে সরকার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ৪৯টি দেশে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড (অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ছাড়া), জাপান, তুরস্ক (তৈরি পোশাক ছাড়া), কানাডা (পোল্ট্রি, ডেইরি, ডিম ছাড়া) শুল্কমুক্ত পণ্য প্রবেশ করে। এর বাইরে রাশিয়া ও বেলারুশ জিএসপি’র আওতায় ৭১টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করে আসছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ৪ হাজার ৮২০টি পণ্য, চীন ৪ হাজার ৭৮৮টি পণ্য, ভারত সাফটা’র আওতায় টোবাকো ও ওষুধ ছাড়া সব পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে।