জলবায়ু সম্মেলনে বেশকিছু বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও কার্বন নি:সরণ হ্রাস, জলবায়ু তহবিল, ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল, সিভিএফ তহবিল ও গ্রিন ক্লাইমেট তহবিল গঠন নিয়ে কোন সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। যদিও গত এক সপ্তাহ ধরে এসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে ১৯২ টি দেশের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বিতর্ক করেছেন। এসব বিষয়ে সমঝোতার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। পেরুর রাজধানী লিমায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে মন্ত্রী পর্যায়ের উচ্চ পর্যায়ের জলবায়ু কূটনীতি।
এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ কাঠামোর আওতায় যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানে পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের ‘সাবসিডিয়ারি বডি ফর টেকনোলজিক্যাল এডভাইজ’ বা এসবিএসটিএ-এর সমাপনী অধিবেশনে এ আহবান জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজিবুর রহমান এ আহবান জানানোর পাশাপাশি নাইরোবি কর্মপরিকল্পনার আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসাবে বাংলাদেশে অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথাও বলেছেন।
সম্মেলনের ষষ্ঠ দিনে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশসমূহের পক্ষে ডারবান প্ল্যাটফর্ম বিষয়ক খসড়া সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছে। ২০২০ সালের পূর্ব জলবায়ু কর্মপরিকল্পনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংশোধন, বিয়োজন এবং সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বিভিন্ন দেশ কর্তৃক সমর্থিত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে এ মতামত ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনে বাংলাদেশ ডারবান প্ল্যাটফর্ম সংক্রান্ত আলোচনায় স্বল্পোন্নত দেশসমূহের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৪৮ টি দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
ইতিমধ্যে লিমায় শতাধিক দেশের পরিবেশমন্ত্রী ও ৮ দেশের সরকার প্রধান অংশ নিয়েছেন। দুয়েকদিনের মধ্যে আরো ৫০টি দেশের সরকার প্রধান আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জানা গেছে, মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে লস অ্যান্ড ড্যামেজ, ১০০ বিলিয়ন ডলারের সবুজ তহবিল গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এজন্য খসড়া তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আইনি বাধ্যবাধকতায় না আসলে তারাও কার্বন নি:সরণ কমাবে না। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, কার্বন কমানোর ব্যাপারে তারা একমত। তবে এখন তাদের অর্থনীতি ভালো যাচ্ছে না। তাই এ মুহূর্তে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নাও আসতে পারে। অপরদিকে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে, তারা ইতিমধ্যে কার্বন নি:সরণ কমিয়ে এনেছে। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বলছে, এখনই কার্বন নি:সরণ কমালে তাদের তেলের ব্যবহার কমে যাবে।
গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের আগের চার বছর ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রথম দুই বছরের জন্য স্বল্পোন্নত দেশগুলো বছরে ৪০ বিলিয়ন আর ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বছরে ৬০ বিলিয়ন দাবি করেছে। তবে এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলো। তারা এখনো মধ্য মেয়াদের তহবিলে অর্থ যোগান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, কোরিয়া, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেসরকারি খাত থেকে এ ফান্ডে অর্থায়নের কথা বলেছে।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বলছেন, আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে এমন চুক্তি করতে তাদের অসুবিধা রয়েছে। তাই তারা সবুজ তহবিলে অর্থ দেয়ার ব্যাপারে কোনো রকম আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে না গিয়ে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সম্মেলন শুরুর দিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড’ ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ে বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার ব্যাপারে আভাস দিয়েছে। তবে নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও জার্মানি সবুজ তহবিলে অর্থায়ন করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
