ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যতটুকু আইনি কাঠামো, সার্মথ্য ও শক্তি আছে তা দিয়ে সত্যিকারের দুর্নীতিবাজদের খুঁজে বের করতে হবে। দুদককে কোন শক্তির মাধ্যমে প্রভাবিত না হয়ে প্রয়োজনে আরও শক্তিশালী হতে হবে। দুর্নীতিবাজদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।
সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাগ্রত বিবেক, দুর্জয় তারুণ্য, দুর্নীতি রুখবেই’-এই প্রতিপাদ্য ধারণ করে টিআইবি এবং সংগঠনটির যুব স্বেচ্ছাসেবী শাখা ঢাকা ইয়েস গ্রুপ এ কর্মসূচি আয়োজন করে। মানববন্ধনে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ৯ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস’ সরকারিভাবে পালনের আহ্বান জানানো হয।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ বলেন, আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়তই অসংখ্য ছোট-বড় ধরণের দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে। সমাজের বড় লোকেরা যেভাবে ইয়াবা-সোনা চোরা চালানের মত দুর্নীতির কাজ করে থাকে, সেভাবে ছোট লোকেরাও ওজনে কম দিয়ে দুর্নীতি করে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্টানে প্রশ্নপত্র ফাঁসও এক ধরণের দুর্নীতি। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ফাঁস হওয়া প্রশ্নের জন্য দৌঁড়ঝাঁপ দেয়। এতে শিক্ষার্থীরা ‘না’ বলে রুখে দাড়াঁলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা কমবে।
তিনি বলেন, মানুষের বিবেক জাগ্রত না হলে সমাজে দুর্নীতি থামানো যাবে না। তরুণ সমাজকে এই দায়িত্ব নিতে হবে। এক্ষেত্রে নিজেদেরকে আগে সৎ হতে হবে। এসময় তিনি উপস্থিত তরুণ-শিক্ষার্থী-নাগরিকদের দুর্নীতিবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীনরা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত। ‘ক্ষমতায় থাকলে সম্পদের পাহাড় গড়া যায়’-এই ধারণা আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে। সরকার ও দুদককে এমন উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে করে এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।
তিনি বলেন, সময়ের বির্তনে সব প্রতিষ্ঠানেরই স্বাধীনতা ও আইনি সংস্কারের প্রয়োজন হয়। তবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে কোন আইনী সংস্কার করা হলে তা ভালো ফল বয়ে আনে না। একইসাথে আইনি সংস্কার করে দুদককে আরও বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে।
টিআইবির নির্বাহী উপ-পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে সমাজ রাষ্ট্রের সকল স্তরেই সক্রিয় ও সোচ্চার হতে হবে। সরকারকে যেমনি দায়িত্ব পালন করতে হবে, নাগরিকদের সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকার ও নাগরিক পরস্পরের সম্পূরক হিসেবে কাজ করলে দুর্নীতি দ্রুত লোপ পাবে।
