গীতাকে ভারতের জাতীয় গ্রন্থ ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৪, ২১:২৩
 
ভগবৎ গীতাকে ভারতের জাতীয় গ্রন্থ হিসেবে ঘোষণার দাবি তুলে বিতর্কর জন্ম দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজ।
সংসদে মঙ্গলবার বিরোধী দলগুলো স্বরাজের এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন এ ধরনের উদ্যোগ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতিকে বিপন্ন করবে।
ভারতের মুসলিম পার্সোনেল ল বোর্ড এই প্রস্তাবকে 'সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়' বলে আখ্যা দিয়েছে।
ভগবৎ গীতাকে নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার দিল্লির এক অনুষ্ঠানে, যেখানে এই গ্রন্থের ৫১৫১ বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হচ্ছিল। গীতা প্রেরণা মহোৎসব নামে সেই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, ভাগবত গীতা কার্যত ভারতের জাতীয় গ্রন্থের মর্যাদা পেয়েই গেছে – আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা শুধু বাকি।
মিস স্বরাজ তার ভাষণে বলেন, তিনি সংসদে অনেক আগেই গীতাকে রাষ্ট্রীয় গ্রন্থ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলেন। নতুন সরকার এখনও সেই ঘোষণা করেনি ঠিকই, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা সফরে গিয়ে ওবামার হাতে গীতা উপহার দিয়ে এই পবিত্র গ্রন্থকে বস্তুত সেই মর্যাদাই দিয়ে দিয়েছেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ভাষণকে 'অত্যন্ত বিপজ্জনক' বলছেন।
তারা আরো বলেছেন, একটি ধর্মগ্রন্থকে জাতীয় গ্রন্থ বলার অর্থ দেশে একটিমাত্র সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব স্বীকার করা, কিন্তু তাতে ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে খাটো করা হয়।
সংসদে সোমবার প্রায় একই যুক্তি দিয়ে বিরোধী দলগুলো সুসমা স্বরাজের প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী মায়াবতী বলেন, গীতাকে জাতীয় গ্রন্থ ঘোষণা করা হলে অন্য ধর্মের পবিত্র গ্রন্থগুলো কী দোষ করল?
সিপিআই নেতা ডি রাজা বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ ভারতীয় গণতন্ত্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকেই নষ্ট করে দেবে। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসও নিন্দা জানায় প্রায় একই সুরে।