নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার ১৪৩তম জন্ম ও ৮২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রোকেয়ার জন্মস্থান পায়রাবন্দে রোকেয়া মেলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে— রোকেয়ার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান, পায়রাবন্দ জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা।
অন্যদিকে বেগম রোকেয়া ফোরাম, বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া কলেজসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, নারী সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত বক্তৃতা ও স্বরচিত কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করেছে।
এদিকে বেগম রোকেয়ার আদর্শ, কর্ম ও জীবন সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করার পাশাপাশি তার স্মৃতি এবং অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে পায়রাবন্দ গ্রামে নির্মিত বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটি দীর্ঘ ৭ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ৬ মাস ধরে বিদ্যুত্হীন অবস্থায় রয়েছে কেন্দ্রটি। ভেঙ্গে গেছে মিলনায়তন মঞ্চের একাংশ। অযত্নে পড়ে রয়েছে স্মৃতি কেন্দ্রে নির্মিত বেগম রোকেয়ার মুর্যাল, তার ব্যবহূত জিনিসপত্র। ধূলা আর মাকড়সার জালে বন্দি শত শত বই আর রোকেয়ার প্রতিকৃতি।
বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল জানান, শুধুমাত্র বেগম রোকেয়া দিবস এলেই ৩/৪ দিনের জন্য স্মৃতি কেন্দ্র খুলে দেয়া হয় এবং বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটি যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছে তা বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিবে বলে আশা করি।
তিনি আরো বলেন, বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ৬ জনকে অনুমোদন প্রদান করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউই বেতন-ভাতা পায়নি। বর্তমানে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ না থাকায় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না হওয়ায় সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
এদিকে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান নানা আয়োজনে তার স্মৃতি ও কীর্তি স্মরণ করবে। দিবসের প্রধান আয়োজন ‘রোকেয়া পদক’ প্রদান করা হবে নগরীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে এ পদক প্রদান করবেন। বাংলা একাডেমিতে বিকাল ৪টায় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ও নারী আন্দোলন শীর্ষক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে একাডেমি। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোকেয়া ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ে উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, বিপ্লবী নারী সংহতিসহ বিভিন্ন সংগঠন।