‘অন্ধত্ব দূর করতে কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত করা হবে’

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৪, ২০:৪৫
 
 
 
 
 
 
 
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘অন্ধত্ব দূরীকরণ কর্মসূচিতে গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গ্রামের দরিদ্র মানুষকে এর আওতায় আনতে চোখের ছানি অপারেশনের বিনামূল্যে ক্যাম্প কার্যক্রমে এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রগুলোকে সম্পৃক্ত করা দরকার। প্রয়োজনে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মাসে দুই দিন বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।’ মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য ব্লাইন্ডের (বিএনসিবি) স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ করার পাশাপাশি কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের এ সম্পর্কে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে যাতে তারা গ্রামের ওয়ার্ড পর্যায়ের ছানি অপারেশন উপযোগীদের তালিকা তৈরি করে উপজেলায় বা জেলায় প্রেরণ করতে সক্ষম হয়।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বাংলাদেশে নিবারণযোগ্য অন্ধত্ব দূরীকরণ কর্মসূচি সরকারি ও বেসরকারি যৌথ অংশীদারত্বের সফল উদাহরণ। একটি সমন্বিত কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট এলাকা ভাগ করে বেসরকারি সংস্থাগুলো সরকারকে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে চলেছে।’
 মন্ত্রী বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য বেসরকারি পর্যায়ের সক্রিয় সহযোগিতা আরো বাড়ানো জরুরি।’
‘দেশে মাত্র এক হাজার চক্ষু চিকিত্সক’ উল্লেখ করে মন্ত্রী চক্ষু বিশেষজ্ঞ বাড়াতে নতুন প্রজন্মকে এ বিষয়ে পড়াশোনায় উত্সাহ দেয়ার লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, লায়নস ইন্টারন্যাশনালের সাবেক গভর্নর শেখ কবির হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. নূর হোসেন তালুকদারসহ বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি বেসরকারি সংস্থার  প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 
পরে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত হিদার ক্রুডেন সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত্ করতে এলে মন্ত্রী বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে শক্তিশালী করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আরো কার্যকর করে গড়ে তুলতে কানাডা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
কানাডার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অর্জনের প্রশংসা করে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনের লক্ষ্যে দেশের মানুষের পুষ্টিমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সাফল্যে কানাডার অব্যাহত সহযোগিতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামীতে সহায়তা বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানান।