* শৃংখলা ভঙ্গকারী কাউকে অনুকম্পা দেখানো হবে না
* সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি রয়েছে
* বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয় বিএনপি
খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাথমিকভাবে ‘শনাক্ত’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কাউকে অনুকম্পা দেখানো হবে না। তিনি বলেন “আমি আগেই বলেছিলাম, বিষয়টি হালকাভাবে নেয়া হবে না। তা নেয়াও হয়নি।
গত ৪ ডিসেম্বর রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একদল সরকারি কর্মকর্তার বৈঠকের খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হলেও একে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয় বিএনপি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে প্রশাসন ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নেয়ার কথা জানা গেলেও বাকিরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী। বিষয়টি প্রমাণিত হলে ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী (বিশেষ) বিধান অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ই ব্যবস্থা নেবে। আর প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা গেছে তাদের মধ্যে আছেন ওএসডি যুগ্ম-সচিব একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইব্রাহিম মিয়াজি ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আবদুল মান্নান ও একেএম হুমায়ুন কবির, সিনিয়র সহকারী সচিব এহসানুল হক, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ক্যাশ সরকার মো. তোহা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বদিউল কবির, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী শহিদুল হক, এমএলএসএস এম এ মামুন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এমএলএসএস মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী জহির। কাজী জহির বিভাগের উপ-সচিব আব্দুল মজিদের পিও ছিলেন। তাকে গতকাল লাইব্রেরীতে সংযুক্ত করা হয়েছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব এমএ কাদের সরকার এ তথ্য স্বীকার করে বলেছেন, গুলশান বৈঠকে তার উপস্থিত থাকার প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পর এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসন শাখার কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো নির্দেশনা না পেলে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। তবে সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি রয়েছে।
ওই বৈঠকে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এএসএম আবদুল হালিম, সাবেক সচিব সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সচিব ব্যারিস্টার মুহাম্মদ হায়দার আলী এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এমএ কাইয়ুম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
