৩৪তম বিসিএসে অংশগ্রহণকারী চাকরিপ্রার্থীদের অপেক্ষা কাটছে না। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রায় ৯ মাস কেটে যাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২১ মাস পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ এ সময়ে এখনো লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করছে না বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ফলে দুশ্চিন্তায় চাকরি প্রার্থীদের কপালের ভাজ গভীর হচ্ছে। অপেক্ষার দীর্ঘ প্রহর গুণছেন তারা।
পিএসসি সূত্রে জানা যায়, দুই হাজার ৫২টি পদের বিপরীতে ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত বছরের ২৪ মে অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় এক লাখ ৯৫ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। দুই দফায় সংশোধিত ফলাফলে ৪৬ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হন। এ বছরের ৩১ মার্চ ৩৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা (বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা বাদে) শেষ হয়। লিখিত পরীক্ষার পর আট মাসের বেশি সময় কেটে গেলেও কবে নাগাদ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না পিএসসির সদস্যরা।
বিগত কয়েকটি বিসিএসের ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার চার-পাঁচ মাসের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এর পর মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন উত্তীর্ণ প্রার্থীরা। সর্বশেষ নিয়োগ সম্পন্ন হওয়া ৩৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ঐ বছরেরই ২৪ ডিসেম্বর। চার মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয় ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিলে; কিন্তু ৩৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর ৩৩তমর চেয়ে দ্বিগুণ সময় কেটে গেলেও ফল প্রকাশিত হচ্ছে না।
পিএসসির একাধিক সদস্য জানান, আগের বিসিএস পরীক্ষাগুলোতে দশ থেকে ১২ হাজার প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতেন; কিন্তু ৩৪তম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৪৬ হাজারের বেশি প্রার্থী। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার কাট নম্বর (পাসের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম নম্বর) অপেক্ষাকৃত কম ধরায় এমনটি হয়েছে।
পিএসসির অপর একটি সূত্র জানায়, ৩৪তম পরীক্ষার বিপুল পরিমাণ খাতা মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট শাখা ও কর্তাব্যক্তিরা যে চাহিদা উপস্থাপন করেন, তা পুরোপুরি মেটানো হয়নি। উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকদের কাছে খাতা দেরিতে পাঠানো হয়েছে। আবার বেশ কিছু খাতা এখনো পিএসসিতে এসে পৌঁছায়নি। টেবুলেশন প্রক্রিয়া মাঝপথে আটকে রয়েছে। তত্পরতা বৃদ্ধি করা না হলে চলতি ডিসেম্বরেও ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে না।
৩৪তম বিসিএসে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী বলেন, বিসিএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হলে চাকরিপ্রার্থীদের বহুমুখী সমস্যায় পড়তে হয়। চাকরির বয়সসীমা পার হয়ে যায়; কিন্তু পরীক্ষার ফল প্রকাশ না হওয়ায় অন্য পরীক্ষায় আবেদন করার আগ্রহ থাকে না। অপেক্ষার পর ফল প্রকাশিত হলেও অনেকেই ব্যর্থ হন। তাই দ্রুততর সময়ে বা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফল প্রকাশিত হলে চাকরিপ্রার্থীরা বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। ফল প্রকাশে দেরি হলে অপেক্ষা-দুশ্চিন্তায় সময় কাটাতে হয়। ৩৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল দ্রুততম সময়ে প্রকাশের দাবি জানান তারা।
এ প্রসঙ্গে জানতে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছার উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
পিএসসির চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ বলেন, ফলাফল দ্রুততম সময়ে প্রকাশের ব্যাপারে আমাদের আন্তরিকতার অভাব নেই। উত্তরপত্র মূল্যায় প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে। যথাযথ ও নির্ভুল ফলাফল প্রকাশ করতে আরো কয়েকদিন সময় প্রয়োজন। তবে সম্ভাব্য অল্প সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে। ঠিক কবে নাগাদ ফল প্রকাশ করা হতে পারে, এমন প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।
