প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজে নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জনসংখ্যার অর্ধেককে পেছনে রেখে সমাজের অগ্রগতি হতে পারে না। সমাজের অগ্রগতির জন্য অবশ্যই নারী ও পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করে বলেন, কোন মেয়েই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। প্রতিটি নারী শিক্ষিত হবে। তার সরকার বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস এবং বেগম রোকেয়া পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি নারী শিক্ষা বিস্তার এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমাজে দরিদ্র ও অসহায় নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য অধ্যাপক মমতাজ বেগম এবং মিসেস গোলাপ বানুর হাতে বেগম রোকেয়া পদক তুলে দেন। শিশু ও নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া বেগম রোকেয়া পদক-২০১৪ বিজয়ী অধ্যাপক মমতাজ বেগম এবং মিসেস গোলাপ বানু তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বেগম রোকেয়া স্বপ্ন দেখতেন, সমাজের অবহেলিত নারীরা শিক্ষিত এবং স্বাবলম্বী হবে। তার এই স্বপ্নের অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি প্রতিটি শিক্ষিত নারীর হূদয়ে বেঁচে আছেন এবং থাকবেন। বেগম রোকেয়ার আদর্শ, অনুপ্রেরণা, শক্তিশালী মানসিকতা ও কর্ম নারী জাতির মুক্তির পথ দেখাবে।
প্রধানমন্ত্রী বেগম রোকেয়া পদক বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই পদক প্রদান নারী উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে আরো উত্সাহিত করবে। সমাজের অনেক নারী স্বাধীনতার জন্য এবং নারীর সম্মান ও তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছেন বলে তিনি জানান।
নারী উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রীয় নীতি, প্রকল্প কর্মসূচি ও শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বিনামূল্যে শিক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃত্তি দেয়ায় নারী শিক্ষার হার বেড়েছে। তিনি বলেন, সরকার নারী উন্নয়ন নীতি ২০১৪ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ আইন-২০১০ প্রণয়ন করেছে। বিভিন্ন সরকারি কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৪০ মন্ত্রণালয়ে ‘জেন্ডার সেনসেটিভ’ বাজেট তৈরি হচ্ছে। গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপের ২০১৩ সালের রিপোর্টে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ৭ম স্থানে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বেগম রোকেয়া পদক ২০১৪ বিজয়ী জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান প্রফেসর মমতাজ বেগম তার অনুভূতি প্রকাশকালে বলেন, আমি বেগম মুজিবের পরামর্শে মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনের পদক্ষেপ গ্রহণ করি। নারীরা যেন মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে, এ লক্ষ্যে প্রত্যেক বাড়িতে এ ধরনের পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মিসেস গোলাপ বানু বলেন, নারীরা পশ্চাত্পদ নয়, তবে তাদের সাহসের অভাব রয়েছে। তিনি নারীদের সঙ্গে অব্যাহত সংগ্রামের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমার একাডেমিক কোন শিক্ষা নেই। তবে অর্থ রয়েছে। আমি নারীদের সঙ্গে নিয়ে আমার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে চাই। প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালে বেগম রোকেয়া পদক প্রবর্তিত হয়। এ পর্যন্ত ৩৭ জন নারী এ পদক পেয়েছেন।
