গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে ফর্মুলা তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪, ১১:০৮

বিভিন্ন দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে দ্বিতীয় সপ্তাহে পেরুর জলবায়ু সম্মেলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ডারবান প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে একটি নতুন সমঝোতায় উপনীত হবার জন্য এডহক ওয়ার্কিং গ্রুপের তৈরি করা খসড়ার ওপর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিবৃন্দ এ সপ্তাহে আলোচনা করবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ করার একটি সর্বজনীন ও গ্রহণযোগ্য সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে এ আলোচনায়। বহুপাক্ষিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তৃতীয় বিশ্বে বা উন্নয়নশীল দেশসমূহের ক্ষতি পোষানোর বিষয়টি আলোচনা করা হবে। গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য উন্নত দেশসমূহের কাছে একটি ফর্মুলা তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে।
এদিকে, আলোচনায় অংশ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু লিমায় অবস্থান করছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দকে নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ২০১৫ সালে চুক্তি হলেও কবে থেকে তা কার্যকর হবে এসব বিষয় নিয়ে এখনো মতবিরোধ চলছে। শিল্পোন্নত দেশগুলো গত কয়েক বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রতি দিলেও তারা ১০০ মিলিয়ন অর্থও ছাড় করেনি। তারা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েই দায় এড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের একটিই পৃথিবী, তাই একে বাঁচানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ, সদস্য গোলাম রাব্বানী এমপি, টিপু সুলতান এমপি, ইয়াহিয়া চৌধুরী এমপি এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিভিন্ন গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিনিধবৃন্দের করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশসমূহের মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে এক ব্রিফিং-এ অংশগ্রহণ করেন তিনি।
১৯২ দেশের সম্মতিতে ২০২০ সাল থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের গ্রিন ফান্ড, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে ২০১৫ সালে প্যারিসে আইনি বাধ্যবাধকতাসহ একটি চুক্তিতে পৌঁছার রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। আজ বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন।
সকল দেশের অংশগ্রহণে ২০১৫ সালে প্যারিসে আইনি বাধ্যবাধকতামূলক চুক্তি করা, ২০২০ সালের আগের আট বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রথম চার বছর ৬০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি এবং লস এ্যান্ড ড্যামেজের বিষয়টি চূড়ান্ত করাই মূল লক্ষ্য। তিন বিষয়ে মতবিরোধ কমিয়ে আনার চেষ্টাও হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইডেন-এর মধ্যেই মধ্য মেয়াদি আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিলেও অন্যান্য উন্নত দেশগুলো কোন সহায়তার ঘোষণা দিচ্ছে না। গতকাল পর্যন্ত সবুজ তহবিলে ৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি মিলেছে। আজ বাকি দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি সুনির্দিষ্ট করে ঘোষণার দাবি করেছে স্বল্পোন্নত দেশগুলো।
এবারের সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে লস অ্যান্ড ড্যামেজের বিষয়টি। উন্নত দেশগুলো তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসায় শেষ পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশগুলো এ ফান্ড থেকে ২০১৫ সাল থেকেই অর্থ পাবে। তবে দুর্যোগের কারণে যে ক্ষয় ও ক্ষতির ঘটনা ঘটবে তার ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যাপারে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো এ ক্ষতিপূরণ প্রদানের পক্ষে অবস্থান নিলেও যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশগুলো এ ক্ষতিপূরণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ড. সেলিমুল হক বলেন, এবার ডারবান প্ল্যাটফর্মের আলোকে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যায়- লিমা থেকেই ২০১৫ সালে সবার অংশগ্রহণে একটা আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হবে।
এদিকে, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু তহবিলে অর্থ প্রদানের দাবিতে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। পরিবেশ বন্ধু যুবকরা গতকাল বিক্ষোভ করেছেন। সমঝোতায় পৌঁছাতে গতকাল বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে এলডিসি, আফ্রিকান গ্রুপ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, অস্ট্রেলিয়াসহ প্রভাবশালী ১৭টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন সম্মেলনের সভাপতি পেরুর পরিবেশ মন্ত্রী ম্যানুয়েল পুলগার ভিডাল ও ইউএনএফসিসিসির নির্বাহী সেক্রেটারি ক্রিস্টিনা ফিগুইরা।