বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন

শেখ হাসিনা হ্যাট্রিক করবেন: নাসিম

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৮:৪৪



আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘৫ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে দেশে সেনা শাসন (মার্শাল ল) জারি হতো। সেই সেনা শাসনের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করেছেন শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়া সেই নির্বাচন বানচাল করতে না পেরে এখন হুমকি দিচ্ছেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে নাসিম বলেন, ‘যতোই হুমকি দেন, ২০১৯ সালের একদিন আগেও নির্বাচন হবে না। সেই নির্বাচনেও জিতে বাংলাদেশে পরপর তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হ্যাট্রিক করবেন শেখ হাসিনা।’

বুধবার স্থানীয় জিলা স্কুল মাঠে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধক ও প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন ।

এর আগে অতিথিবৃন্দকে সাথে নিয়ে ফেস্টুন, বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা উড়িয়ে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ।

জেলা অওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  আওয়ামী লীগের যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, হাবিবর রহমান এমপি প্রমুখ। সম্মেলন সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি মুনসুর রহমান মুন্নু।

মোহাম্মদ নাসিম তার বক্তব্যে বলেন, ‘এতোদিন বলা হতো বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি, কিন্তু এবার প্রমাণ হয়েছে বগুড়া এখন শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ঘাঁটি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল বলেই সারা দেশে সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে পরিচালনা করে আসছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিকভাবে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন এবং সফলতার সাথে দেশ পরিচালনা করছেন। আগামীতে একইভাবে দেশ পরিচালনা করবেন।’
সম্মেলন উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকে ঘন কুয়াশা ও শীত উপেক্ষা করে বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো নেতাকর্মী শহরে আসতে শুরু করে। বেলা ১২টার মধ্যে সম্মেলনস্থল বগুড়া জিলা স্কুল মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে ঢুকতে না পেরে বাড়তি লোকজন জিলা স্কুলের আশপাশে এবং সাতমাথা চত্বরে নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। সম্মেলনে প্রায় ৩৫ হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, আর্মড পুলিশ এবং র‌্যাবসহ প্রায় ৪শ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।