নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় ইইউ

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:১৮

গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে সফররত ইইউ সংসদীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান জেন ল্যামবার্ট। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন পদ্ধতি কি হবে সেটা ঠিক করতে হবে এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকেই। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার জন্য এ বিষয়ে এখনই আলোচনা শুরু করতে হবে। তবে কবে নির্বাচন হবে সে বিষয়ে ইইউ উদ্বিগ্ন নয়। চার দিনের ঢাকা সফরের শেষদিনে গতকাল রাজধানীর গুলশানে ইইউ দূতাবাসে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন ল্যামবার্ট। এ সময় ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়োডন উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন বিষয়ে জেন ল্যামবার্ট বলেন, নতুন নির্বাচন নয়, পরবর্তী নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে, কোন্ পদ্ধতিতে হবে— তার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে সে সমাধান হওয়া জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সমস্যার সমাধান রাজনীতিবিদদেরই খুঁজে বের করতে হবে।
দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশেষ করে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুমের বিষয়ে বরাবরের মত উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রত্যেকটি ঘটনার পূর্ণ তদন্তের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যবস্থা করতেও সরকারকে অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ সংসদীয় দলের প্রধান জানান, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করার বিষয়ে ইইউ বিএনপিকে যে পরামর্শ দিয়েছিল সে বিষয়ে ইইউ এর অবস্থানও অপরিবর্তিত আছে। তবে মঙ্গলবার বিএনপি’র সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে কোন আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, যেহেতু নতুন কোন অবস্থান ইইউ ঘোষণা করেনি সেহেতু আগের অবস্থানেই আছে।
এনজিও আইন সম্পর্কে জেন ল্যামবার্ট বলেন, এমন কোন নিয়ন্ত্রণমূলক আইন করা উচিত নয়, যা গতিশীল নাগরিক সমাজের কণ্ঠ রোধ করবে। পোশাক শিল্প ও দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অবকাঠামো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই হল মূল চ্যালেঞ্জ। ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক রফতানি করতে হলে অবশ্যই পোশাক শিল্প কারখানাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও ইইউ-এর মানসম্পন্ন হতে হবে। আর এজন্য সবার আগে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরে এদেশের পোশাক শিল্পে অনেক পরিবর্তন এসেছে। গার্মেন্ট কারখানাগুলো কমপ্লায়েন্ট হয়েছে। তবে এ খাতে আরো বেশি পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এ খাতের জন্য এখনো অনেক কিছুই করার আছে।

অন্যদিকে ব্লু ইকোনমি সম্পর্কে পিয়েরে মায়োডন বলেন, এটা সরকারের জন্য উত্সাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে একইসঙ্গে সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সমুদ্র সম্পদ আহরণে বিদেশি বিনিয়োগকেও উত্সাহিত করা যেতে পারে।