বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান মুসা বিন শমসেরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে এক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই ব্যবসায়ীর নাম এ কে এম শহীদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের সিনিয়র উপপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। উল্লেখ্য, ৪ ডিসেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মুসা বিন শমসেরের কাছে নোটিস পাঠানো হয়। ওই নোটিসে তাকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সুইস ব্যাংকে মুসা বিন শমসেরের ৭ বিলিয়ন ডলার রয়েছে। বিদেশে অর্থ পাচার এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তলব করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সাময়িকী ‘বিজনেস এশিয়া’র প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দুদক তার সম্পদ যাচাই ও অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মুসা বিন শমসেরের সম্পদের বিষয়ে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
সূত্র আরো জানায়, ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুযায়ী মুসা বিন শমসেরই বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার সম্পত্তি ১২ বিলিয়ন ইউএস ডলারের ওপরে। তিনি অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক পরিচিত। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী টনি ব্লেয়ারের নির্বাচনী প্রচারের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের এ ব্যবসায়ী। চলতি বছর ‘বিজনেস এশিয়া’ ম্যাগাজিন মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশি এ ধনাঢ্য অস্ত্র ব্যবসায়ীর ৭ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে সুইস ব্যাংকে। টাকা দেশে ফেরত আনা ও বিপুল সম্পদ অর্জনের উত্স খুঁজতে দুদক আবার নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করে।
জানা গেছে, মুসার জন্ম ১৯৫০ সালের ১৫ অক্টোবর ফরিদপুরে। তিনি ড্যাটকো গ্রুপের মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি করেন। তবে তার পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো অস্ত্র ব্যবসার কথাই আগে আনে।
দুদক সূত্র জানায়, আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের বিদেশে অর্থ পাচার এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বর্তমানে অনুসন্ধান করছেন দুদকের উপপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদিন শিবলী। এর আগে এই অভিযোগটি দুদকের উপপরিচালক শেখ ফাইয়াজ আলম অনুসন্ধান করছিলেন। অনুসন্ধানে গতি আনতে কর্মকর্তা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
